ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর কার্যক্রম বা তেল উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী আমিন এইচ. নাসের।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রকাশিত আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
আমিন এইচ. নাসের বলেন, হুথিদের হামলা আরামকোর উৎপাদন সক্ষমতায় কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেনি। জুলাই মাসে লোহিত সাগর উপকূলসহ বিভিন্ন স্থানে কোম্পানির স্থাপনায় হামলা হলেও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
আরামকো জানিয়েছে, যুদ্ধজনিত কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ার পরও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কোম্পানিটি উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করেছে।
এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানিটি ৩২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিট মুনাফা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি এবং রাসায়নিক পণ্যের উচ্চমূল্য এ মুনাফা বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
এর আগে গত সপ্তাহে সৌদি আরবের সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়, দেশটির তেল উত্তোলন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। এর প্রভাবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে সৌদি আরবের প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৪ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
এদিকে গত ৩০ জুলাই সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যৌথ সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করা হয়েছে। এই জোট ভারত মহাসাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত কৌশলগত নৌপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের রুট সুরক্ষায় কাজ করবে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। একসময় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। একই সঙ্গে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের নৌপথে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য সরবরাহে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা