ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচি ও সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হওয়ায় অনিশ্চয়তা, ৮–৯ অক্টোবর দিল্লিতে বাণিজ্য বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিগগিরই নয়াদিল্লি সফরের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস। দুই দেশের ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচি, সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হওয়া এবং দ্বিপক্ষীয় সফরের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এখনো সমঝোতা না হওয়ায় অদূর ভবিষ্যতে এ সফর হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, তারেক রহমান অক্টোবরে জাপান সফরে যেতে পারেন। এরপর নভেম্বরে তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব সফরের চূড়ান্ত দিনক্ষণও এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও আগামী কয়েক মাসে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক কর্মসূচি রয়েছে। ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর তাঁর ফিলিপাইন সফরের কথা রয়েছে, যেখানে তিনি আসিয়ান সম্মেলনে অংশ নেবেন। ডিসেম্বরেও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও বেলজিয়ামে তাঁর সম্ভাব্য সফর রয়েছে বলে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে। ফলে দুই দেশের সরকারপ্রধানের সূচি সমন্বয় করাও তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরের সময় নির্ধারণে একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারেক রহমানকে ভারত এরই মধ্যে দুটি পৃথক আমন্ত্রণ জানিয়েছে। একটি ছিল দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য। অন্যটি বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য। তবে বাংলাদেশ গত মাসে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেয়নি। একই সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের তারিখও এখনো ঢাকা ও নয়াদিল্লি চূড়ান্ত করতে পারেনি।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ চলছে। এর মধ্যে বাণিজ্য ও কনস্যুলার বিষয়ে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক রয়েছে।
এরই মধ্যে তিন বছর পর দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ৮ ও ৯ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৬তম বৈঠকে যোগ দিতে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার দিল্লির উদ্দেশে রওনা হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এফটিএ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।
বৈঠকে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানো, স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক করা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। আগের বৈঠকগুলোতে স্থলবন্দর অবকাঠামো, সীমান্ত হাট, রেলপথে পণ্য পরিবহন, আঞ্চলিক যোগাযোগ, পণ্যের মান ও পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং বাংলাদেশ-ভারত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির প্রস্তুতির বিষয়ও আলোচিত হয়েছিল।
বাংলাদেশ চেয়েছিল বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের পর দুই দেশের বাণিজ্যসচিব পর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হোক। তবে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে বলা হয়েছে, ভারতীয় পক্ষ জানিয়েছে—ট্রানজিট ও সীমান্ত বাণিজ্যের মতো বিষয় নিয়ে কাজ করা অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ফোরোর বৈঠক শেষ হওয়ার পর বাণিজ্যসচিব পর্যায়ের বৈঠক হতে পারে।
এদিকে দুই দেশের যৌথ কনস্যুলার বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের দিনক্ষণ নিয়েও আলোচনা চলছে। বৈঠকটি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভিসাসহ কনস্যুলার বিষয়ে বেশ কয়েকটি জটিলতা নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে এ বৈঠককে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে বাণিজ্য ও কনস্যুলার পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়। সীমান্ত, বাণিজ্য, ভিসা, পানি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে আগ্রহ থাকলেও এখন পর্যন্ত সফরের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হয়নি। ফলে শিগগিরই সফর হচ্ছে—এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই বলে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও কনস্যুলার পর্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ পুনরায় সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি দিল্লি সফরের প্রস্তুতির সম্ভাব্য একটি অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।