পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সভাপতি নওয়াজ শরিফ। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কেন্দ্রীয় সরকার এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাহবাজ। অন্যদিকে নওয়াজের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও আগেই হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল।
গত ১১ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। সন্ত্রাসবাদ দমনে প্রাদেশিক সরকার ‘ইচ্ছাকৃতভাবে নিষ্ক্রিয়’ ছিল—এমন অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই গত সপ্তাহে দেশটির পার্লামেন্টে এ পদক্ষেপ অনুমোদন পায়।
গতকাল শনিবার শাহবাজ শরিফ বলেন, জরুরি অবস্থা জারি এড়াতে কেন্দ্রীয় সরকার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছে। এ বিষয়ে বিরোধীদের সঙ্গে সরকার ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) যৌথ প্রতিনিধিদলের কয়েক দফা আলোচনাও হয়েছিল।
শাহবাজ জানান, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সঙ্গে টানা ৪৮ ঘণ্টা আলোচনা চলে। এ সময় একটি সমঝোতার খসড়াও তৈরি হয়েছিল। প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, পিটিআইয়ের প্রতিবাদ মিছিল বন্ধ করার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, গত ৩ অক্টোবর দুই পক্ষের দ্বিতীয় দফার আলোচনা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে। এ ছাড়া খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি ও তাঁর পূর্বসূরি আলী আমিন গান্দাপুরের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন তিনি।
জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির পর প্রদেশটিতে মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির দায়িত্ব কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি সমর্থন জানিয়েছেন পিএমএল-এনের সভাপতি নওয়াজ শরিফ। গতকাল শনিবার লন্ডনে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আরও আগেই কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন ছিল।
নওয়াজের ভাষ্য, পিটিআইয়ের শাসনামলে প্রদেশটির পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছিল। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। শান্তি ফিরিয়ে আনা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য এ হস্তক্ষেপ প্রয়োজন ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।