রমজানে যে ২ সময়ে দোয়া বেশি কবুল হয়

আজাদ ইসলাম
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

গুনাহ মাফ ও তাকওয়া অর্জনের মাস রমজানে মহান রাব্বুল আলামিন মুমিনদের জন্য অফুরন্ত সওয়াব অর্জনের সুযোগ রেখেছেন। আরবি বর্ষপঞ্জিকার নবম এই মাসে অল্প আমলেই অনেক বেশি সওয়াব অর্জনের সুযোগ রয়েছে। আবার মহিমান্বিত এই মাসে বান্দা রোজা রাখার ফলে আখিরাতে তা ঢাল হয়ে কাজ করবে। খোদ নবীজি (সা.) বলেছেন- সিয়াম (রোজা) ঢাল স্বরূপ। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৯৫)

তাই প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেকের জন্য রমজান মাসে রোজা রাখাকে ফরজ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম (রোজা) ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।’ (সুরা বাকারা: আয়াত: ১৮৩)

অন্যদিকে আখিরাতে খোদ মহান রাব্বুল আলামিন বান্দাকে রোজার প্রতিদান দেবেন। আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি, ‘মহান আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, মানব সন্তানের যাবতীয় কাজ তার নিজের জন্য। কিন্তু সিয়াম (রোজা), এটা আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেবো’। নবীজি (সা.) আরও বলেছেন, সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতের মুঠোয় মুহাম্মাদের (সা.) জীবন! নিশ্চয়ই সিয়াম (রোজা) পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে কস্তূরীর সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধিময়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৯৪)

এ ক্ষেত্রে অফুরন্ত সওয়াব লাভের এই মাসে দুই সময়ে বান্দার দোয়া বেশি কবুল হয়। কারণ, এই সময়গুলোয় বান্দার প্রতি মহান রাব্বুল আলামিনের করুণা থাকে।

ইফতারের সময় দোয়া
আবু হুরায়রা (রা.) আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- তিন ব্যক্তি এমন যাদের দোয়া রদ হয় না- ১) সিয়াম পালনকারী, যখন সে ইফতার করে, ২) ন্যায়বান শাসক এবং ৩) মাজলুমের দোয়া। আল্লাহ তা’আলা তাদের দোয়া মেঘের উপরে নিয়ে যান, এর জন্য আসমানের দরওয়াজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। আর পরওয়ারদিগার বলেন, আমার ইজ্জতের কসম, কিছুদিন পরে হলেও অবশ্যই তোমাকে আমি সাহায্য করব। (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস: ১৭৫২; সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৯৮)

রাতের শেষ তৃতীয়াংশে
আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে রাতের শেষ তৃতীয়াংশে বান্দার দোয়া কবুল হওয়ার কথা এসেছে। হাদিসটি হলো- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- মহামহিম আল্লাহ্ তা’আলা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন- কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেবো। কে আছ এমন যে, আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে তা দেবো। কে আছ এমন যে, আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৭৯)

এলাকার খবর

সম্পর্কিত