পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে শুরু করেছেন হাজার হাজার মানুষ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মাইজভান্ডারি আশেকানদের পদচারণায় সকাল থেকেই মুখর হয়ে উঠেছে উদ্যান ও আশপাশের এলাকা। এক পশলা বৃষ্টির পরও অনুষ্ঠানস্থলে মানুষের উপস্থিতি কমেনি।
আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়া ও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে এবারের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বেলা ১১টার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দক্ষিণ গেট থেকে জশনে জুলুস বের হওয়ার কথা রয়েছে।
আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জুলুসটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বের হয়ে দোয়েল চত্বর, শিক্ষা ভবন ও সচিবালয়ের সামনের সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার উদ্যানে ফিরে আসবে। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশ।
বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিভিন্ন প্রবেশপথে দেখা যায় মানুষের সারি। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অংশগ্রহণকারীদের বহনকারী বাসগুলো আব্দুল গনি রোডসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, উদ্যানের দক্ষিণ পাশে নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক দুটি প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলের বিভিন্ন জায়গায় আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল সকাল থেকেই। এর মধ্যে সকালে এক পশলা বৃষ্টি হলে মাঠের কিছু অংশ কাদায় ভরে যায়। তবে এতে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। বৃষ্টির মধ্যেই অনেকে অনুষ্ঠানস্থলে অবস্থান নেন।
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মাইজভান্ডারি অনুসারীরা ঢাকায় এসেছেন। তাঁদের অনেকের হাতে ছিল ধর্মীয় পতাকা ও ব্যানার। বিভিন্ন দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকেও অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, জশনে জুলুসের পর অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশ। এতে দেশের জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সুফি স্কলার, পীর-মাশায়েখ, ওলামা, শিক্ষাবিদ ও ধর্মীয় নেতারা বক্তব্য দেবেন।
সমাবেশে সুন্নি সুফিবাদী মতাদর্শের বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের দাবি, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এ আয়োজনের মাধ্যমে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা তুলে ধরা হবে।
আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়া ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) চেয়ারম্যান ড. শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সকাল থেকেই মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকায় আশপাশের এলাকাতেও এর প্রভাব পড়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বাস ও অন্যান্য যানবাহনের কারণে আব্দুল গনি রোডসহ আশপাশের সড়কে মানুষের চলাচল বেড়েছে। জুলুস বের হলে নগরের ওই অংশে যান চলাচলে আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আয়োজকেরা জুলুস ও মহাসমাবেশ সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অনুষ্ঠানস্থলে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে প্রতিবছরই দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। তবে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এবারের কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের অংশগ্রহণের কারণে এটি বড় একটি ধর্মীয় সমাবেশে রূপ নিচ্ছে।
সকাল থেকে বৃষ্টি, কাদা কিংবা দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ক্লান্তি—কোনোটিই থামাতে পারেনি অংশগ্রহণকারীদের। জশনে জুলুস ও আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এখন অপেক্ষা মূল আয়োজনের। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল আরও জমজমাট হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।