রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজ ক্যাম্পাসে দেয়াল লিখন করার সময় বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার পাশাপাশি মারধর, অশোভন আচরণ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সেলিম রেজা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে ক্যাম্পাসের মসজিদের পাশের এলাকা ও বিশ্বকবি ভবনের দেয়াল লিখন আঁকার সময় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে গ্রাফিতি আঁকার কাজ শুরু করেন। মসজিদের পাশের দেয়াল, বাংলা ভবনের কয়েকটি দেয়াল ও পেছনের অংশে তাদের আঁকাআঁকি চলছিল। বিকেল ৪টার দিকে কাজ প্রায় শেষ হওয়ার সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী এসে তাদের কাজ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী তিতুমীর কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক রিফাতুল মোর্শেদ অভিযোগ করে বলেন, 'দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে আমরা ক্যাম্পাসে দেয়াল লিখনের কাজ শুরু করি। মসজিদের পাশের দেয়াল, বিশ্বকবি ভবনের কয়েকটি দেয়াল ও পেছনের অংশে তাদের আঁকাআঁকি চলছিল। বিকেল ৪টার দিকে কাজ প্রায় শেষ হওয়ার সময় ছাত্রদলের সদস্য সচিব সেলিম রেজাসহ কয়েকজন নেতাকর্মী এসে আমাদের কাজ বন্ধ করতে বলে।'
রিফাতুল মোর্শেদ বলেন, "দেয়ালে 'ছুটে আয় ওরে অনিরুদ্ধ, শুরু হোক আরেকটা যুদ্ধ' স্লোগানটি লেখা ছিল। এটি দেখে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই যুদ্ধ কাদের বিরুদ্ধে জানতে চান। আমরা এটিকে নিয়মিত শ্রেণি সংগ্রামের অংশ বলে ব্যাখ্যা করলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তা না মেনে অশোভন আচরণ শুরু করেন। এ সময় ছাত্রদলের এক নেতা আমাদের নারী কর্মী তানহা জামানকে লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে।"
তিনি আরও বলেন, "এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ছাত্রদলের সদস্য সচিব সেলিম রেজা ছাত্র মৈত্রীর আহ্বায়ক সোহাগ প্রামাণিকের ওপর চড়াও হয়ে তার গালে চড় মারে। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে সদ্য আঁকা দেয়াল লিখন মুছে ফেলতে বাধ্য করে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে এ ধরনের কার্যক্রম করা যাবে না জানিয়ে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে চলে যেতে বলে।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম রেজা বলেন, 'এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এগুলো মিথ্যা অভিযোগ।'
প্রসঙ্গত, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদলের সদস্য সচিব সেলিম রেজার বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমনে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে।