সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতিতে ঘরের মাঠে চার জাতির টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভিন্ন পথ বেছে নিল বাংলাদেশ। ফিফা আসিয়ান কাপে খেলার আমন্ত্রণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের জাতীয় দল কমিটি (এনটিসি)। ফলে সেপ্টেম্বরে ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে তুলনামূলক শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে লাল-সবুজের দল।
ভারত এই টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বাংলাদেশকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানায় স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া। ব্রাজিল ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য ভারত সরে দাঁড়ানোর পর তাদের জায়গায় বাংলাদেশকে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ফিফার অর্থায়নে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে প্রিমিয়ার বিভাগে আটটি দল অংশ নেবে। দলগুলোকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। ইন্দোনেশিয়ায় প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হবে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। চার জাতির এই টুর্নামেন্টের প্রিমিয়ার ডিভিশনের ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। অন্য গ্রুপে রয়েছে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও পাকিস্তান। দুই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দেশ খেলবে ফাইনাল।
শুক্রবার এনটিসির সভায় টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতির জন্য ইন্দোনেশিয়ায় ফিফা আসিয়ান কাপে খেলা, নাকি ঢাকায় চার জাতির টুর্নামেন্ট আয়োজন করা, দুটি বিকল্পই বিবেচনায় ছিল। শেষ পর্যন্ত এনটিসির সদস্যরা সবাই ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার পক্ষে মত দেন। কারণ, আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার সুযোগ বাংলাদেশকে বেশি প্রস্তুত করবে বলে মনে করছে কমিটি।
এনটিসির সদস্য ও বাফুফে নির্বাহী কমিটির সদস্য সাঈদ হাসান কানন বলেন, 'বাফুফে সভাপতি ও এনটিসির চেয়ারম্যান তাবিথ আওয়াল এনটিসির সদস্যদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, আমরা ফিফা আসিয়ান কাপে অংশ নেব, নাকি ঢাকায় চার জাতির টুর্নামেন্ট আয়োজন করব। আমরা সবাই ফিফা আসিয়ান কাপে খেলার পক্ষে মত দিয়েছি। কারণ, এটি আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতির অংশ হবে এবং সেখানে আমরা আরও ভালো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাব।'
শুধু মাঠের প্রস্তুতি নয়, আর্থিক দিক থেকেও ইন্দোনেশিয়ার টুর্নামেন্টকে সুবিধাজনক মনে করছে বাফুফে। অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ অর্থও পাবে। পাশাপাশি স্বাগতিকরা খেলোয়াড়দের আবাসন ও যাতায়াতের বিমানভাড়া বহন করবে। জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক কানন বলেন, 'বাংলাদেশ অংশগ্রহণের অর্থও পাবে। এ ছাড়া স্বাগতিকরা আবাসন ও বিমানভাড়ার ব্যবস্থা করবে। তাই ঢাকায় চার জাতির টুর্নামেন্ট আয়োজনের চেয়ে এটি আমাদের জন্য ভালো একটি বিকল্প।'
এনটিসির সিদ্ধান্তের পর এখন আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করবে বাফুফে। সভাপতি ও সচিবালয় আয়োজকদের কাছে অংশগ্রহণের সম্মতিপত্র পাঠানোসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে।