যে কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিততে পারে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে এসে বাংলাদেশ এখন এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে, যেখান থেকে জয়ের স্বপ্ন দেখাকে আর বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে না। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টের দুই দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই বাংলাদেশের হাতে। দ্বিতীয় দিন শেষে ১৫৩ রানের লিড নিয়ে ব্যাটিংয়ে থাকা বাংলাদেশ চাইলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের গল্পও লিখতে পারে।

ফক্স ক্রিকেটের পূর্বাভাসেও বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ।

শুধু বাংলাদেশের লিডের কারণেই এমন পূর্বাভাস নয়। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসও বাংলাদেশের আশাবাদ বাড়াচ্ছে। প্রথম ইনিংসে ১০০ বা তার বেশি রানে পিছিয়ে থেকেও অস্ট্রেলিয়া সর্বশেষ টেস্ট জিতেছিল ২০১০ সালে, সিডনিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে। এরপর এক যুগেরও বেশি সময়ে এমন পরিস্থিতি থেকে আর কোনো টেস্ট জিততে পারেনি তারা।

সিডনির সেই টেস্টে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৪৩৫ রান করেছিল। জবাবে মাত্র ২২৯ রানে অলআউট হয়ে ২০৬ রানের ঘাটতিতে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু মাইক হাসির ১৩৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে ঘুরে দাঁড়ায় রিকি পন্টিংয়ের দল। শেষ পর্যন্ত ৩৬ রানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর প্রথম ইনিংসে ১০০ বা তার বেশি রানে পিছিয়ে পড়ে আর কোনো টেস্ট জিততে পারেনি তারা।

তবে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে টেস্ট জেতা যায় না। বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসের বড় কারণ ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামের উইকেটে তাদের পারফরম্যান্স।

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদ একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন পেয়েছেন দুটি করে উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে শুরু থেকেই চাপে রেখেছেন বাংলাদেশের পেসাররা। ফলে স্বাগতিক দলের বড় স্কোর করার সুযোগ তৈরি হয়নি।

এরপর বাংলাদেশের ব্যাটিংও ম্যাচের চিত্র বদলে দিয়েছে। মারারা স্টেডিয়ামের উইকেটকে ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ বলা যাচ্ছে না। এমন উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটারদের লম্বা সময় উইকেটে থেকে রান করতে হয়েছে ধৈর্য ও মনোযোগের সঙ্গে।

৩৫১ রান তুলতে বাংলাদেশ খেলেছে ১১০ ওভার। রানরেট ছিল ৩.১৯। অর্থাৎ দ্রুত রান তোলার চেয়ে উইকেটে টিকে থেকে পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে নেওয়ার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটাররা।

এই ইনিংসে তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাট থেকে এসেছে ঐতিহাসিক ১০১ রান। নাজমুল হোসেন শান্ত করেছেন ৮৪ এবং মুমিনুল হক করেছেন ৪৯ রান। তাদের ব্যাটিং বাংলাদেশকে বড় লিডের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে।

তবে ইনিংসের একপর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা আবার ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল। দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নিয়ে জশ হ্যাজলউড ও মিচেল স্টার্ক পরপর আঘাত করে নাজমুল, লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমকে ফিরিয়ে দেন। তখন বাংলাদেশের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু সেই চাপও সামলে নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। দিনের শেষ পর্যন্ত উইকেটে থেকে তাঁরা বাংলাদেশের লিড আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছেন।

দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৫১ রান। মিরাজ ৩২ ও হাসান মাহমুদ ১৩ রানে অপরাজিত। অর্থাৎ তৃতীয় দিনে ব্যাটিং শুরু করার সময় বাংলাদেশের হাতে এখনো চারটি উইকেট রয়েছে। ফলে লিড আরও বড় করার সুযোগও আছে।

বাংলাদেশ যদি লিড ২০০ রানের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার জন্য ম্যাচটি আরও কঠিন হয়ে উঠবে। কারণ তখন চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের বোলারদের মোকাবিলা করে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে।

আর এখানেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আশার জায়গা। প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন যেভাবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে বিপর্যস্ত করেছেন, তাতে দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশের পেস আক্রমণকে সামলানো সহজ হবে না।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। দীর্ঘ ২৩ বছর পর সেই দেশে ফিরে এসে প্রথম দুই দিনেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া তাই আলাদা গুরুত্ব বহন করছে।

এখন বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় কাজ হলো তৃতীয় দিনে দ্রুত উইকেট না হারিয়ে লিড যতটা সম্ভব বাড়ানো। ২০০ বা তার বেশি রানের লিড পেলে অস্ট্রেলিয়ার ওপর মানসিক চাপও বাড়বে। আর বাংলাদেশের পেসাররা যদি প্রথম ইনিংসের মতোই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে পারেন, তাহলে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্বপ্ন বাস্তব হয়ে উঠতেই পারে।

তবে টেস্টের শেষ বল না হওয়া পর্যন্ত কোনো ফলই নিশ্চিত নয়। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে চতুর্থ ইনিংসে হারাতে হলে বাংলাদেশের বোলারদের পাশাপাশি ব্যাটারদেরও শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব নিতে হবে। দুই দিনের পারফরম্যান্স অবশ্য বলছে, ইতিহাস গড়ার মতো অবস্থানেই আছে বাংলাদেশ।
 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত