ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান নেওয়া এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের ঘটনায় গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে সদরপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।
ঘটনাটি গত ১১ জুলাই দুপুরে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের আমির খার ডাঙ্গী গ্রামে ঘটে। ভুক্তভোগী বিথী আক্তার (২৮) মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বড়দোয়ালী গ্রামের বাসিন্দা।
মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভাষাণচর এলাকার উকিল উদ্দিন শেখের ছেলে, কাতারপ্রবাসী শাহিন শেখ (৩৫) প্রথম স্ত্রী থাকার বিষয়টি গোপন রেখে প্রায় সাত মাস আগে বিথী আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর কিছুদিন তারা কাতারে একসঙ্গে বসবাস করেন। প্রায় তিন মাস আগে দেশে ফেরার পর শাহিন তাকে নিজ বাড়িতে না তুলে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় রাখেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর শাহিন তাকে ছেড়ে চলে যান। পরে স্ত্রীর স্বীকৃতি ও স্বামীর বাড়িতে থাকার দাবিতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গত ১০ জুলাই তিনি সদরপুরের ওই বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পরদিন সকালে অভিযুক্তরা তাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে চাপ দেন। তিনি এতে রাজি না হলে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে শাহিনের চাচা পাঞ্জু শেখ তার পেটে লাথি মারেন বলে অভিযোগ করেন বিথী। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং রক্তক্ষরণ শুরু হলে স্থানীয়রা তাকে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার গর্ভের সন্তান মারা যায়।
এ ঘটনায় বিথী আক্তার বাদী হয়ে স্বামী শাহিন শেখসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে শাহিন শেখের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।