মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশকে যুক্ত করার কোনো প্রস্তাব এলে জাতীয় স্বার্থ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির আলোকে যেকোনো বহুপাক্ষিক উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আগে এতে দেশের মানুষের কী লাভ হবে, তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সফররত ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব আন্দা ফিলিপের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আমন্ত্রণ বাংলাদেশ পায়নি। তবে ভবিষ্যতে কোনো প্রস্তাব এলে তা বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
তিনি বলেন, কোনো বহুপাক্ষিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আগে প্রস্তাবটির সম্ভাব্য প্রভাব, জাতীয় স্বার্থ এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য এর সুফল কী হতে পারে, তা বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগতে পারে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশের অবস্থান জানানো হবে।
আইপিইউ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্দা ফিলিপের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সরকারি ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেছেন। এর আগে তিনি জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশ আবার সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সংসদ সচল ও শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে এবং আইপিইউ মহাসচিব বাংলাদেশের এই অগ্রগতিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বিশেষ করে বর্তমান সংসদে নতুন ও তুলনামূলক তরুণ সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যদের যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আইপিইউর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে আইপিইউর সঙ্গে সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে সরকার আগ্রহী। আন্তর্জাতিক সংসদীয় কার্যক্রমে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ বাড়লে তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ হবে, যা দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।