যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে শিগগিরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি। সোমবার হোয়াইট হাউসের প্যাডে লেখা এক চিঠিতে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং চিঠিটি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তিনি পেয়েছেন। উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারেক রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “বোয়িং আপনাকে হতাশ করবে না, আমিও বিষয়টি ভুলব না।” বোয়িং কেনার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মনোযোগের জন্যও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
তারেক রহমানের সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাৎ হবে—এমন প্রত্যাশা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, “খুব বেশি দিন নয়, অদূর ভবিষ্যতেই আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করছি।”
বাংলাদেশের জনগণের প্রতিও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অনেক কঠিন সময় পার করেছে। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও দেশটির জনগণের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে বলে তিনি মনে করেন।
বোয়িং নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ
বাংলাদেশের বোয়িং কেনার বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোরও বাংলাদেশের বোয়িং কেনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবদান তুলে ধরতে গিয়ে গোর বলেন, চলতি সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আরেকটি “অসাধারণ চুক্তি” হয়েছে। তাঁর দাবি, এর আওতায় বাংলাদেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা প্রাথমিক ক্রয়াদেশের চেয়েও বেশি।
গোরের ওই বক্তব্যের এক দিন পরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ট্রাম্পের চিঠি দেওয়ার বিষয়টি সামনে এল।
১৪টি উড়োজাহাজ কিনছে বিমান
বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য গত ৩০ এপ্রিল চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এ নিয়ে নানা আলোচনা ও দর-কষাকষির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তিটি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, এসব উড়োজাহাজ কিনতে বাংলাদেশের ব্যয় হবে প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। হিসাবটি করা হয়েছে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা ধরে। বোয়িং ২০৩১ সাল থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব উড়োজাহাজ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে সরবরাহ করবে।
এ ছাড়া উড়োজাহাজের প্রয়োজন মেটাতে আরও কিছু বিমান লিজ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সোমবার ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের আগ্রহ অনুযায়ী বাংলাদেশ বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কিনছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৪টি বোয়িং কেনার পাশাপাশি আরও উড়োজাহাজ লিজ নেওয়া হবে।
ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কে নতুন মাত্রা?
বাংলাদেশের বিমান বহর আধুনিকায়নের প্রয়োজনের পাশাপাশি বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তটি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্পের চিঠিতে শুধু উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদই জানানো হয়নি, বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে। বিশেষ করে তারেক রহমানের সঙ্গে শিগগির সাক্ষাতের প্রত্যাশার কথা জানানোয় দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়েও নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের সম্ভাব্য বৈঠকের সময়, স্থান বা আলোচ্যসূচি সম্পর্কে চিঠিতে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।