বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের কর্মসূচি ঘিরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দলটির দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ বাইপাস এলাকার হাসান গোমস্তা মসজিদের সামনে দুই পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
সংঘর্ষে জড়ানো দুই পক্ষের একটি সাবেক সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর অনুসারী এবং অন্যটি উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। সংঘর্ষের পর কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা বাঁশবাড়িয়া এলাকায় অবস্থান নিয়ে মিছিল করলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। পরে এক পক্ষ বাঁশবাড়িয়া এলাকায় গিয়ে অবস্থান নেয়। পুলিশ গিয়ে তাঁদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপিতে আসলাম চৌধুরী ও কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদের আলাদা কমিটি রয়েছে। দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে। মঙ্গলবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই পক্ষই পৌরসভার একটি কমিউনিটি সেন্টারে পৃথক কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই পক্ষকে আলাদা সময়ে অনুষ্ঠান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এর মধ্যেই দুপুরে আসলাম চৌধুরীর অনুসারী নেতা-কর্মীদের একটি মিছিল দক্ষিণ বাইপাস এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় হাসান গোমস্তা মসজিদের সামনে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারী সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কাজী মো. মহিউদ্দিন অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তাঁদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।’ তাঁদের পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের অভিযোগ অস্বীকার করেন মহিউদ্দিন। তাঁর ভাষ্য, হামলার প্রতিবাদে দলীয় নেতা-কর্মীরা বাঁশবাড়িয়া এলাকায় তাৎক্ষণিক মিছিল করেন। সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হওয়ায় কিছু সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। কোনো ব্যারিকেড দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারী উপজেলা বিএনপির অংশের সদস্যসচিব মো. মোরসালিন অভিযোগ করেন, তাঁদের পক্ষের কর্মসূচি মুনস্টার কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজনের কথা ছিল। পরে ক্লাব কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানটি বাতিল করে দেওয়ায় তাঁরা অন্য জায়গায় কর্মসূচি সরিয়ে নেন।
মোরসালিন বলেন, তাঁদের কর্মসূচিতে যোগ দিতে নেতা-কর্মীরা যাওয়ার সময় তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তাঁদের পক্ষেরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো দলীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একই দলের দুই পক্ষের এমন সংঘর্ষে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংঘর্ষের পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।