৮০ উপজেলার সব ইউনিয়নে প্রথম ধাপের ভোট; শেষ ধাপ ২৭ মে
দেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সাত ধাপে করার প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন। শেষ ধাপের ভোট হবে আগামী বছরের ২৭ মে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানান।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে দেশের ৬৩ জেলার ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে ভোট নেওয়া হবে। তবে উপনির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনায় ঠাকুরগাঁও জেলাকে প্রথম ধাপের বাইরে রাখা হয়েছে। ওই জেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলো দ্বিতীয় ধাপে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে ১২ নভেম্বর ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর ভোট হতে পারে।
পরবর্তী ধাপগুলোর ভোটের জন্য ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপ, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ ধাপ এবং ২৭ মে সপ্তম ও শেষ ধাপের দিন প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেন সাত ধাপে ভোট
একসঙ্গে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদে ভোট না নিয়ে সাত ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পেছনে বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচি ও বাস্তব পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়েছে ইসি। নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, বিভিন্ন পরীক্ষা, দুর্গাপূজা, রমজান ও ঈদের সময় বিবেচনায় নিয়ে ভোটের এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এখনো এই সূচি চূড়ান্ত নয়। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃবিভাগীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন আয়োজনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।
ইসি জানিয়েছে, নির্বাচন পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা, ধর্মীয় ও জাতীয় অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয় সমন্বয়ের পরই চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করা হবে।
প্রায় ৪ হাজার ২৭২ ইউপির ভোট ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে
দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮০টি। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২৭২টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার সময়সীমা তৈরির পরিকল্পনা করছে ইসি। তবে সব ইউনিয়নের নির্বাচন একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে না। স্থানীয় পরিস্থিতি, বিদ্যমান পরিষদের মেয়াদ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় বিবেচনা করে ধাপে ধাপে ভোট নেওয়া হবে।
প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার সব ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা থাকায় নভেম্বরেই দেশের বড় একটি অংশে স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন শুরু হবে। এরপর ডিসেম্বর ও ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে পর্যায়ক্রমে বাকি ইউনিয়নগুলোতে ভোট হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ
ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার পরিকল্পনাও রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। কমিশন জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হবে। ইসি সানাউল্লাহ জানান, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুরো নির্বাচন কার্যক্রমের তৃতীয় ধাপে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপে বসবে ইসি। সেখানে নির্বাচন আয়োজন, পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা, আচরণবিধি এবং অন্যান্য বিষয়ে দলগুলোর মতামত নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাধারণত জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় বেশি বিস্তৃত ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটকেন্দ্র, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। সাত ধাপে ভোট আয়োজনের মাধ্যমে এসব প্রস্তুতি পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার সুযোগও তৈরি হবে বলে মনে করছে কমিশন।
প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর
ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের ভোটের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এরপর ১৩ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ধাপ, ৩০ ডিসেম্বর তৃতীয় ধাপ, ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপ, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ ধাপ এবং ২৭ মে সপ্তম ধাপের ভোট হবে। তবে ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃবিভাগীয় বৈঠকের পর দিনক্ষণে পরিবর্তন আসতে পারে। এরপর কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণা করলে ভোটের তারিখ ও ধাপভিত্তিক ইউনিয়নের তালিকা চূড়ান্ত হবে।
ফলে এখনই ১২ নভেম্বরকে চূড়ান্ত ভোটের দিন হিসেবে না দেখে ইসির প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী বৈঠক ও আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয়ের পরই জানা যাবে, সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনের এই সূচি অপরিবর্তিত থাকছে কি না।