দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করার দাবি

ফেসবুকে নারী হেনস্তাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করছে ‘নো মোর সাইলেন্স’

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১০
ছবি : এআই, ডেইলি স্টার ছবি:
ছবি : এআই, ডেইলি স্টার

কর্মস্থলে অভিযোগ পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ; ভুল পরিচয় প্রকাশ ও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের ছবি, ভিডিও কিংবা ব্যক্তিগত মতামতসংবলিত পোস্টের নিচে অশালীন ও হেনস্তামূলক মন্তব্যের ঘটনা নতুন নয়। কখনো নারীর পোশাক, কখনো ব্যক্তিগত জীবন, আবার কখনো তাঁর মতামতকে কেন্দ্র করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন অনেকে। এসব মন্তব্যের আড়ালে থাকা ব্যক্তিদের একটি অংশ ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করলেও অনেকে নিজেদের প্রকৃত পরিচয়েই এমন আচরণ করেন। ভুক্তভোগী নারীদের অনেকেই এসব মন্তব্য মুছে দেওয়া, সংশ্লিষ্ট আইডি ব্লক করা কিংবা অভিযোগ জানানো ছাড়া কার্যকর কোনো পথ খুঁজে পান না।

এ পরিস্থিতিতে ফেসবুকভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘নো মোর সাইলেন্স’ অনলাইনে নারীদের হেনস্তামূলক মন্তব্যকারীদের পরিচয় প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে যাত্রা শুরু করা গ্রুপটির সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জনের বিষয়ে কর্মস্থলে যোগাযোগ করা হয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থা নিয়েছে বা সতর্ক করেছে বলেও দাবি গ্রুপটির।

তবে হেনস্তার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিবাদ গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই কতটা নির্ভরযোগ্য, ভুল পরিচয় প্রকাশ হলে দায় কে নেবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ কীভাবে নিশ্চিত হবে। কারণ, অনলাইনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ যেন নতুন করে কারও অধিকার ক্ষুণ্ণ করার কারণ না হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

যেভাবে শুরু

‘নো মোর সাইলেন্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক আবির আহম্মেদ পিয়াস। তিনি জানান, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, তারকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তিদের পোস্টে নিয়মিত আপত্তিকর মন্তব্য দেখতে পেতেন। এসব মন্তব্যের অনেকগুলোই আসত ব্যবহারকারীদের প্রকৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। অথচ একই ব্যক্তিরা নিজেদের অ্যাকাউন্টে ইতিবাচক বক্তব্য ও স্বাভাবিক সামাজিক কর্মকাণ্ডের পোস্টও দিতেন।

পিয়াসের ভাষ্য, মন্তব্যের ঘরে হেনস্তার ঘটনাগুলো সাধারণত উপেক্ষা করা হয়। ফলে মন্তব্যকারীদের অনেকেই কোনো জবাবদিহির মুখোমুখি হন না। এই পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে থাকা তথ্য ও মন্তব্যের প্রমাণ তুলে ধরলে তাঁদের আচরণ নিয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরি হবে—এমন ভাবনা থেকেই গ্রুপটি চালু করা হয়। গ্রুপটির কার্যক্রম পরিচালনায় রয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা ও দুই মডারেটর—উম্মে সুরাইয়া সুমি এবং জাকিয়া হোসেন। সুমি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বর্তমানে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। জাকিয়া উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

সুমি জানান, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, তারকা ও ইনফ্লুয়েন্সারদের পোস্টে হেনস্তামূলক মন্তব্য নজরে এলে প্রথমে মন্তব্যের স্ক্রিনশট সংগ্রহ করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্টের প্রকাশ্য তথ্য, পোস্ট, পেশা ও পরিচয়সংক্রান্ত বিবরণ পর্যালোচনা করা হয়। এসব তথ্য ও মন্তব্যের স্ক্রিনশটের ভিত্তিতে ফটোকার্ড বা সংকলন তৈরি করে গ্রুপে প্রকাশ করা হয়।

তাঁর দাবি, ভুয়া আইডির ক্ষেত্রে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় গ্রুপটি মূলত প্রকৃত পরিচয়ে পরিচালিত অ্যাকাউন্টগুলো নিয়ে কাজ করে। তবে কোনো অ্যাকাউন্টে থাকা নাম, ছবি, কর্মস্থল বা ঠিকানার তথ্য যে সব সময় সত্য হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফলে এসব তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি গ্রুপটির কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

কর্মস্থলে অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

প্রতিষ্ঠাতা পিয়াস জানান, শুরুতে শুধু গ্রুপের ভেতরেই এ ধরনের পোস্ট প্রকাশ করা হতো। পরে সদস্যদের পরামর্শে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মস্থলে ইমেইলের মাধ্যমে অভিযোগ ও প্রমাণ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। গ্রুপের সদস্যদের কেউ কেউ স্বতঃপ্রণোদিত হয়েও এসব ইমেইল পাঠান।

পিয়াসের ভাষ্য অনুযায়ী, সাইপ্রাসে বসবাসকারী এক ব্যক্তি একজন নারীর পোস্টে হেনস্তামূলক মন্তব্য করেছিলেন। গ্রুপে তাঁর পরিচয় প্রকাশের পর এক সদস্য ওই ব্যক্তির কর্মস্থলে ইমেইল পাঠান। পরে তাঁর চাকরি চলে যায় বলে দাবি করেন পিয়াস। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তির বসবাসের শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষকেও ইমেইলে বিষয়টি জানানো হয় বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আরেক ব্যক্তির বিষয়ে প্রমাণসহ অভিযোগ পাঠানোর পর প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তাঁকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় বলেও দাবি করেন পিয়াস। তবে এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা না গেলে গ্রুপের দেওয়া তথ্যকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

ভুল পরিচয় প্রকাশের ঝুঁকি

পরিচয় প্রকাশের এই প্রক্রিয়ায় ভুল হওয়ার আশঙ্কার কথাও স্বীকার করেছেন গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা। পিয়াস জানান, একবার এক তরুণের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে ওই প্রতিষ্ঠান জানায়, ওই নামে তাদের কোনো কর্মী নেই। প্রতিষ্ঠানটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছিল। পিয়াস বলেন, ঘটনার পর থেকে তাঁরা যাচাইপ্রক্রিয়া আরও সতর্কভাবে পরিচালনার চেষ্টা করছেন। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না, আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান যোগাযোগের পরও সাড়া দেয় না।

অভিযুক্তের সঙ্গে পোস্ট প্রকাশের আগে যোগাযোগ করা হয় কি না—এ প্রশ্নে পিয়াস জানান, শুরুতে তাঁরা এমন চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের অভিজ্ঞতায়, আগে যোগাযোগ করলে কেউ কেউ মন্তব্য মুছে ফেলতেন এবং অভিযোগ অস্বীকার করতেন। এ কারণে বর্তমানে তাঁরা আগে থেকে যোগাযোগ করেন না। তবে কেউ তথ্যপ্রমাণসহ দাবি করলে যে তাঁর অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে কিংবা মন্তব্যটি তিনি করেননি, তা যাচাই করে প্রয়োজন হলে সংশোধনী বা দুঃখ প্রকাশের পোস্ট দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

এই পদ্ধতি নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। মন্তব্য মুছে ফেলা মানেই অভিযোগ মিথ্যা নয়; আবার কোনো অ্যাকাউন্টে মন্তব্য পাওয়া গেলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই তা করেছেন, সেটিও সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত নয়। অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া, পরিচয় নকল করা কিংবা প্রোফাইলে ভুল তথ্য থাকার সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে কারও নাম, ছবি, বাসার ঠিকানা ও কর্মস্থল একসঙ্গে প্রকাশ করলে তাঁর নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ঠেকানোর ব্যবস্থা কতটা কার্যকর

গ্রুপটি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পিয়াস জানান, শুরুর দিকে একজন সদস্য ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে এ ধরনের উদ্যোগ নিতে চেয়েছিলেন। প্রথমবার সতর্ক করার পর একই আচরণের পুনরাবৃত্তি হলে তাঁকে গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, প্রায় এক বছর ধরে গ্রুপের কাজ স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে চলছে। অনেকে বিনা পারিশ্রমিকে মডারেটর হিসেবে কাজ করতে আগ্রহ দেখালেও কাউকে দ্রুত দায়িত্ব দেওয়া হয় না। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে কেউ যাতে গ্রুপে প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য সতর্কভাবে সদস্য বাছাই করা হয়।

গ্রুপের সদস্যরা জানান, নারীদের বিরুদ্ধে হেনস্তামূলক মন্তব্য শুধু তারকা বা পরিচিত ব্যক্তিদের পোস্টেই সীমাবদ্ধ নয়। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ কিংবা হত্যার মতো ঘটনা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীদের দোষারোপ করে মন্তব্য করা হয়। এমনকি কোনো নারীর মৃত্যু বা মরদেহ উদ্ধারের খবরেও অশালীন মন্তব্য দেখা যায়। গ্রুপটি এসব মন্তব্যকারীর পরিচয় প্রকাশ করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের ভিডিও, নারী তারকা ও রাজনীতিবিদদের পোস্টে আপত্তিকর মন্তব্যকারীদের নিয়েও গ্রুপে পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছে। পরিচয় প্রকাশের পর কয়েকজন নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন বলেও দাবি করেন মডারেটর সুমি। একই সঙ্গে গ্রুপের সদস্যদের কেউ কেউ ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে হুমকি পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

হেনস্তার মানসিক চাপ

অনলাইনে হেনস্তার অভিজ্ঞতা কেবল মন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা ভুক্তভোগীর মানসিক স্বস্তি, সামাজিক যোগাযোগ এবং প্রকাশ্যে মতামত দেওয়ার আগ্রহেও প্রভাব ফেলতে পারে।

অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী জানান, ইউরোপ সফরের সময় জার্মানিতে কনটেইনার হোমে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করার পর তাঁকে নানা ধরনের আপত্তিকর মন্তব্যের মুখে পড়তে হয়। মন্তব্যগুলো তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছিল বলে জানান তিনি। উর্বী বলেন, তিনি এমন হেনস্তার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তাঁর ব্যক্তিগত সফর, কার সঙ্গে বিদেশে গেছেন—এসব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন ও কটূক্তি করা হয়। তাঁর প্রশ্ন, নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপরিচিত ব্যক্তিদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে কেন? তিনি জানান, ভিডিওতে আপত্তিকর মন্তব্য করা ৪০ থেকে ৫০টি অ্যাকাউন্ট ব্লক করার পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তাঁর পর্যবেক্ষণ, কিছু অ্যাকাউন্ট বট বা ভুয়া বলে মনে হলেও স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণদের মধ্যেও এমন আচরণ দেখা গেছে। এতে অনলাইনে আচরণ, পারিবারিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ২০২০ সালের ২১ থেকে ২৮ অক্টোবর পরিচালিত অনলাইন জরিপে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের ৭৯ শতাংশের বেশি কখনো না কখনো অনলাইন হয়রানি বা সহিংসতার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। জরিপের প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীদের মধ্যে নারীদের অংশ ছিল প্রায় ৫৩ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়। জরিপটি ছয় বছর আগের; তাই বর্তমান পরিস্থিতির সুনির্দিষ্ট চিত্র পেতে নতুন ও প্রতিনিধিত্বশীল তথ্য প্রয়োজন। তবে অনলাইন হয়রানি যে দীর্ঘদিনের সামাজিক সমস্যা, তা ওই জরিপের ফলেও উঠে এসেছিল।

আইনে কী আছে

নারীর শালীনতা বা মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে শব্দ, অঙ্গভঙ্গি বা কোনো কিছু প্রদর্শনের মতো আচরণের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় এক বছর পর্যন্ত সরল কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা প্রতিটি অশালীন মন্তব্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে—এমন নয়; ঘটনার ধরন ও আইনের প্রযোজ্যতা বিবেচনা করতে হবে।

সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২৫ ধারায় ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি, প্রতিশোধমূলক পর্নোগ্রাফি, ডিজিটাল শিশু যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত উপাদান বা সেক্সটর্শনের উদ্দেশ্যে ক্ষতিকর বা ভীতিপ্রদ উপাদান প্রকাশ, প্রচার কিংবা প্রকাশের হুমকিকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধারার অধীন অপরাধে সাধারণভাবে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। অপরাধটি নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর বিরুদ্ধে সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড, ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে এই ধারার প্রয়োগ নির্ভর করবে অভিযোগের প্রকৃতি ও আইনে বর্ণিত শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তার ওপর। 

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাসমিয়া নুহিয়া আহমেদের মতে, সামাজিক সম্মানহানির ভয়, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা প্রকাশের আশঙ্কা, আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং কার্যকর প্রতিকার পাওয়ার অনিশ্চয়তা অনেক নারীকে অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত করে। তাঁর মতে, ‘নো মোর সাইলেন্স’-এর মতো উদ্যোগ ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা সামনে আনা ও সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে উদ্যোগটি দায়িত্বশীলভাবে পরিচালিত হওয়া জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, যথাযথ তথ্যপ্রমাণ যাচাই না করে কারও ছবি, পরিচয় বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়। এতে নিরপরাধ ব্যক্তির অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং মানহানি, গোপনীয়তা লঙ্ঘনসহ আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। অভিযোগ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তাসমিয়া নুহিয়া আহমেদের মতে, যে প্ল্যাটফর্ম অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে, তার নিজের কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে ফাঁসানোর জন্য প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হলে অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা দরকার। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ সীমিত রাখা এবং তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তিসংগত সুযোগ দেওয়া উচিত।

কোনো অভিযোগ মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পোস্ট সরিয়ে নেওয়া, প্রকাশ্যে ভুল সংশোধন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সম্মান পুনরুদ্ধারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ, অভিযোগ যাচাইয়ের লিখিত নীতিমালা এবং ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া আর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করা এক বিষয় নয়—এ পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এই আইনজীবী। তাঁর মতে, জবাবদিহির নামে যেন প্রকৃত ভুক্তভোগীদের অভিযোগ করার অধিকার বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

অনলাইনে নারীদের হেনস্তার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দ্বিমত থাকার কথা নয়। তবে প্রতিরোধের পদ্ধতিও হতে হবে প্রমাণনির্ভর, ন্যায়সংগত ও দায়িত্বশীল। ‘নো মোর সাইলেন্স’-এর মতো উদ্যোগ কতজনের পরিচয় প্রকাশ করেছে, তার পাশাপাশি ভুল শনাক্ত হলে কীভাবে সংশোধন করছে, অভিযুক্তকে কীভাবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে এবং ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে সুরক্ষিত রাখছে—এসব বিষয়ই শেষ পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মটির বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ধারণ করবে।

১

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনিতে শামীমের মৃত্যু, 'মবে' স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

২

৯৭২ কোটি টাকায় কেনা ৩০ লোকোমোটিভের ১৮টি চার বছরেই অচল , মেরামতে ৬৮০ কোটি টাকার উদ্যোগ

৩

প্রকাশ্যে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা, আগেও হয়েছিল হামলা

৪

হেনস্তার পর নিরাপত্তা পেলেন ইউনূস, যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবস্থা নিতে বলল বাংলাদেশ

৫

জাপানকে টপকে ২০২৭ সালে চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হবে ভারত: আইএমএফ

৬

কনট প্লেসে ককরোচ পার্টির বিক্ষোভ বন্ধের আবেদন নাকচ দিল্লি হাইকোর্টের

৭

ফেসবুকে নারী হেনস্তাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করছে ‘নো মোর সাইলেন্স’

৮

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুথিদের হামলা, বাড়ছে পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধের শঙ্কা

৯

দেশ ‘উগ্র ডানপন্থার ট্রেনে’ উঠে গেছে: মাহফুজ আলম

১০

ভয়াবহ আগুনের পর টঙ্গীর সেই ওষুধ কারখানার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা

১১

সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন স্থগিত

১২

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ: তিন আসামি রিমান্ডে

১৩

খালেদা জিয়া হ্যান্ডবলে ফাইনালে চোখ আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের

১৪

ইরান যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত’ শেষ হবে, তেলের দাম হু হু করে কমবে-দাবি ট্রাম্পের

১৫

‘মাদার অব অল বম্বস’ দিয়ে ইরানে হামলার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত