কমেছে কনটেইনার পরিবহন ও আয় • রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা ছাড়াই কেনার অভিযোগ
প্রায় ৯৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান হুন্দাই রোটেমের কাছ থেকে কেনা ৩০টি লোকোমোটিভের মধ্যে ১৮টিই চার বছরের মধ্যে অচল হয়ে পড়েছে। ইঞ্জিনগুলোর প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ছিল ২০ বছর। কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, বিশেষায়িত সফটওয়্যার ও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহায়তার অভাবে সেগুলো সচল রাখতে পারছে না বাংলাদেশ রেলওয়ে। এই সংকট সামাল দিতে এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান প্রগ্রেস রেলের সঙ্গে তিন বছরের জন্য প্রায় ৬৮০ কোটি টাকার রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে ইঞ্জিনসংকটের প্রভাব পড়েছে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ১১৯টি লোকোমোটিভ প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে ৬৫টি। চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে চলাচলকারী আটটি কনটেইনার ট্রেনের মধ্যে নিয়মিত চলছে মাত্র দুটি। ইঞ্জিনসংকটে পাঁচটি যাত্রীবাহী ট্রেনও বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে কমেছে কনটেইনার পরিবহনের ট্রিপ ও আয়।
রেলওয়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ইঞ্জিন কেনার সময় দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও বিশেষায়িত কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করার সমন্বিত পরিকল্পনা ছিল না। ফলে প্রস্তুতকারকের সহায়তা শেষ হওয়ার পর ইঞ্জিনগুলো মেরামত করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে রেলওয়ে।
৯৭২ কোটির ইঞ্জিন, চার বছরেই অর্ধেকের বেশি অচল
রেলওয়ের যান্ত্রিক প্রকৌশল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হুন্দাই রোটেমের কাছ থেকে দুই দফায় ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কেনা হয়। প্রথম দফায় ২০১৮ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ১০টি ইঞ্জিন কেনার চুক্তি হয় ২৯৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকায়। পরের বছর আরও ২০টি ইঞ্জিন কেনার চুক্তি হয় ৬৭৪ কোটি ৯ লাখ টাকায়। দুই দফার মোট ব্যয় প্রায় ৯৭২ কোটি টাকা। ইঞ্জিনগুলো ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চলাচল শুরু করে। কিন্তু প্রথম ইঞ্জিনটি অচল হয়ে পড়ে ২০২৩ সালে। ২০২৪ সালে অচল হয় আরও চারটি। ২০২৫ সালে অচল ইঞ্জিনের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০টিতে। চলতি বছরের জুনে তা বেড়ে ১৮টিতে পৌঁছায়। অর্থাৎ কেনা ইঞ্জিনের ৬০ শতাংশই এখন অচল।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাব ও হুন্দাই রোটেমের কারিগরি সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইঞ্জিনগুলো মেরামত করা যাচ্ছে না। ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হয়। এর আগে পাঁচটি ইঞ্জিনে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে প্রস্তুতকারকের কারিগরি দল সেগুলো মেরামত করেছিল। কিন্তু পরে আবার সমস্যা দেখা দেয়। কারিগরি দল বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার পর রেলওয়ের নিজস্ব কর্মীরা ইঞ্জিনগুলো সচল রাখতে পারেননি।
রেলওয়ের পরিচালক (লোকোমোটিভ রক্ষণাবেক্ষণ) সাইফুল ইসলাম বলেছেন, এসব ইঞ্জিন মেরামতে কম্পিউটারভিত্তিক ব্যবস্থা ও নির্দিষ্ট সফটওয়্যার প্রয়োজন। কিছু যন্ত্রাংশও নির্দিষ্ট প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হয়। রেলওয়ের বিদ্যমান ব্যবস্থায় এসব চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে ডিজেল ওয়ার্কশপের যান্ত্রিক প্রকৌশলী ও ওয়ার্কস ম্যানেজার এহতেশাম মো. শফিকের ভাষ্য, ইঞ্জিনগুলোর সেন্সরে বিকল্প যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা যায় না। ফলে প্রস্তুতকারক বা অনুমোদিত সরবরাহকারীর সহায়তা ছাড়া মেরামত করা কঠিন। হুন্দাই রোটেম রেলওয়েকে জানিয়েছিল, ইঞ্জিনগুলো নির্ধারিত সময় পরপর রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন; এই সেবা ওয়ারেন্টির আওতাভুক্ত ছিল না, রেলওয়েকেই আলাদাভাবে এর ব্যবস্থা করতে হতো।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গত ৫ অক্টোবর হুন্দাই রোটেমকে ই-মেইল করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি জবাব দেয়নি বলে *দ্য ডেইলি স্টার* জানিয়েছে। ফলে ইঞ্জিনগুলোর ত্রুটির কারণ, প্রস্তুতকারকের দায়িত্ব এবং চুক্তির শর্ত নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য জানা যায়নি।
কনটেইনার পরিবহন ও আয় দুটিই কমেছে
ইঞ্জিনসংকটের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়েছে রেলওয়ের পণ্য পরিবহনে। পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শফিকুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন ১১৯টি ইঞ্জিন প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬৫টি। হাতে থাকা ইঞ্জিন দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোকে অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে। ফলে কনটেইনার ট্রেনের নিয়মিত চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের তথ্য বলছে, পূর্বাঞ্চলে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২ হাজার ৮৭৮টি কনটেইনার ট্রিপ পরিচালিত হয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৬৭টিতে। অর্থাৎ তিন অর্থবছরের ব্যবধানে কনটেইনার ট্রিপ কমেছে প্রায় ৪৯ শতাংশ।
একই সময়ে কনটেইনার পরিবহন থেকে আয় ২৯৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা থেকে কমে ১৬৩ কোটি ৩১ লাখ টাকায় নেমেছে। আয় কমেছে ১৩৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা, যা প্রায় ৪৫ শতাংশ। এই পতনের পেছনে শুধু লোকোমোটিভসংকটই দায়ী কি না, তা নির্ধারণে অন্য পরিচালনাগত কারণ ও পণ্য পরিবহনের চাহিদাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তবে রেলওয়ের কর্মকর্তারা ইঞ্জিনের ঘাটতিকে সেবা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
কনটেইনার ট্রেনের জন্য প্রতিদিন গড়ে বরাদ্দ দেওয়া ইঞ্জিনের সংখ্যাও ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দৈনিক গড়ে ১১টি ইঞ্জিন বরাদ্দ দেওয়া হলেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা আটটিতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছয়টিতে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনটিতে নেমে আসে।
যাত্রী পরিবহনেও এর প্রভাব পড়েছে। রেলওয়ে কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত চট্টগ্রাম-টাঙ্গাইল, ঢাকা-নোয়াখালী ও লাকসাম-নোয়াখালী রুটে পাঁচটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়েছে। চট্টগ্রাম ও লাকসাম জংশন স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, এসব ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ২০০ যাত্রী যাতায়াত করতেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের সময়ানুবর্তিতাও ব্যাহত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ট্রেনটির অধিকাংশ যাত্রায় ১৫ মিনিট থেকে আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি হয়েছে। ইঞ্জিন সময়মতো না পাওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।
৭০টি ইঞ্জিনের জন্য ৬৮০ কোটি টাকার চুক্তি
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামাভিত্তিক প্রগ্রেস রেলের সঙ্গে তিন বছরের রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রস্তাব অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলে হুন্দাই রোটেমের ৩০টি ইঞ্জিনের পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চলে ব্যবহৃত আরও ৪০টি ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি দেশ ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে সেবা সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত চুক্তির ব্যয় প্রায় ৬৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর্মীদের বেতন, পরামর্শক ও সংশ্লিষ্ট খরচের জন্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। বাকি প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার বড় অংশ ব্যয় হবে তিন বছরে যন্ত্রাংশ কেনার জন্য।
রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, ইঞ্জিন কেনার সময় রেলওয়ের ক্রয় বিভাগ দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করেনি। এখন ইঞ্জিনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও যন্ত্রাংশের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবটি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেও অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি সংস্থার অনুমোদন এখনো বাকি। কয়েকটি সংস্থা প্রস্তাবের কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে। সেসব প্রশ্নের জবাব প্রস্তুত করে প্রস্তাবটি আবার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারুল ইসলাম।
রেলওয়ের কর্মকর্তাদের আশা, চুক্তিটি কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট ৭০টি ইঞ্জিনের প্রাপ্যতা প্রায় ৯৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবে অর্জিত হবে কি না, তা নির্ভর করবে চুক্তির শর্ত, যন্ত্রাংশ সরবরাহের সময়, মেরামতের সক্ষমতা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতার ওপর।
ক্রয় পরিকল্পনা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন
ইঞ্জিন কেনার আগে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা এবং প্রস্তুতকারকের কারিগরি সহায়তার শর্ত মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না—এখন সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ মো. শামসুল হক বলেছেন, লোকোমোটিভ কেনার আগেই দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ ও কারিগরি সহায়তার ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। তাঁর মতে, ক্রয় পরিকল্পনা ও অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রথম দফায় কেনা ১০টি ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে চুক্তির শর্তের সঙ্গে সরবরাহ করা কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের অমিল পায় রেলওয়ের তদন্ত কমিটি। এর মধ্যে কম্প্রেসর ও ট্র্যাকশন মোটর ছিল। পরে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরে আসে। ২০২৫ সালে ইঞ্জিন কেনা ও গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগে রেলওয়ের তিন সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ওই ১০টি ইঞ্জিনের ছয়টি বর্তমানে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ডিজেল ওয়ার্কশপে অচল অবস্থায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মামলা হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলাফলের ভিত্তিতেই দায় নির্ধারিত হবে। একইভাবে, ১৮টি ইঞ্জিন অচল হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে যন্ত্রাংশের ঘাটতি, রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা, ওয়ারেন্টির শর্ত এবং ক্রয়-পরবর্তী কারিগরি সহায়তা—সবকিছুই আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।
নতুন ইঞ্জিন কেনার উদ্যোগও চলছে
লোকোমোটিভসংকট মোকাবিলায় রেলওয়ে শুধু পুরোনো ইঞ্জিন মেরামতের ওপর নির্ভর করছে না। ৭ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৩০টি নতুন মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কেনার জন্য ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার ‘রেলওয়ে ক্যাপাসিটি এক্সপ্যানশন’ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। প্রকল্পে সরকারের অর্থায়ন ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) ঋণ ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। <Cite refs={["turn399416view1"]}/>
পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প-সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়ের ১৬৪টি মিটারগেজ লোকোমোটিভের মধ্যে ১১৫টির অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর পেরিয়েছে; ৬২টি ইঞ্জিনের বয়স ৪০ বছরের বেশি। মিটারগেজ লাইনে ইঞ্জিনের ঘাটতি মেটাতে নতুন কেনাকাটা প্রয়োজন বলে সরকার জানিয়েছে। একই প্রকল্পে যন্ত্রাংশ, সরঞ্জাম ও রেলওয়ের প্রকৌশলী-কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। <Cite refs={["turn399416view1"]}/>
নতুন ইঞ্জিন কেনার এই উদ্যোগ একদিকে পুরোনো বহরের ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা তুলে ধরছে, অন্যদিকে সদ্য কেনা ইঞ্জিনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত দুর্বলতা নতুন করে সামনে আনছে। নতুন লোকোমোটিভ কেনার পাশাপাশি সেগুলোর পুরো আয়ুষ্কালজুড়ে যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে একই ধরনের সংকট পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থেকে যাবে।
রেলওয়ের জন্য এখন তাই দুটি কাজই জরুরি—অচল ইঞ্জিনগুলো দ্রুত মেরামত করে পরিবহন সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতের কেনাকাটায় দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণকে চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ করা। প্রস্তাবিত ৬৮০ কোটি টাকার চুক্তি কত দ্রুত অনুমোদন পায়, কী শর্তে কার্যকর হয় এবং বাস্তবে কতটি ইঞ্জিন সচল করা যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই ব্যয়ের বিনিময়ে রেলওয়ে কতটা সেবা ফিরে পায়।