তিতুমীর কলেজে বিশ্ব বাঘ দিবস, বাঘ সংরক্ষণে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান

তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা ও বাংলাদেশের জাতীয় প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে সরকারি তিতুমীর কলেজে পালিত হয়েছে 'বিশ্ব বাঘ দিবস-২০২৬'। জুওলজি ক্লাব অব তিতুমীরের আয়োজনে এবং ইয়ুথ ভলান্টিয়ার এলায়েন্স-প্রত্যাশীর সহযোগিতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১টায় কলেজের পুরাতন বিজ্ঞান ভবনের ১৩০৭ নম্বর কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কলেজ ক্যাম্পাসে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি বের হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ছদরুদ্দীন আহমদ বলেন, বন্যপ্রাণী হত্যার মানসিকতা থেকে দেশের মানুষকে বেরিয়ে আসতে হবে। একসময় দেশে বাঘের সংখ্যা অনেক বেশি থাকলেও বর্তমানে তা কমে গেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ সংরক্ষণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু বন্যপ্রাণী নয়, আশপাশের উদ্ভিদ ও প্রকৃতিকেও টিকিয়ে রাখতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে বাংলাদেশকে স্বাবলম্বী করতে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।


মুখ্য আলোচক বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন ফেডারেশনের উপদেষ্টা আদনান আজাদ আদনান আজাদ বলেন, বাঘ সংরক্ষণের পাশাপাশি বাঘের আবাসস্থল সুন্দরবনসহ বনাঞ্চল সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ বন না থাকলে বাঘও টিকে থাকতে পারবে না। বাঘের খাদ্যশৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত হরিণ, সাপ, বন্য শূকর ও মাছসহ অন্যান্য প্রাণীকেও সংরক্ষণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাঘসহ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে তরুণদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।


বাংলাদেশ বন বিভাগের কনজারভেটর অফ ফরেস্ট মো. সানাউল্লাহ পাটোয়ারী বলেন, জনসংখ্যার চাপের কারণে বাংলাদেশে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব। সংবিধানেও বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।


ইয়ুথ ভলান্টিয়ার এলায়েন্স-প্রত্যাশীর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ড. নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার এ. বি. এম. সারওয়ার আলম দীপু, কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক এম. এম. আতিকুজ্জামানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও জুওলজি ক্লাবের সদস্যরা।


আয়োজকরা জানান, বাঘ সংরক্ষণে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এবারের বিশ্ব বাঘ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল—‘ভবিষ্যতের জন্য গর্জন: বাঘ সংরক্ষণে যুব সমাজের ভূমিকা’।

 

শু/আজা

এলাকার খবর

সম্পর্কিত