মানব পাচারকারীদের দমনে প্রভাব নয়, আইনের প্রয়োগই মুখ্য: রিজভী

আজাদ অনলাইন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

৩০ জুলাই: কোনো অপরাধী চক্র কতটা প্রভাবশালী, তা বিবেচনা না করে মানব পাচারকারীদের দমন করাই সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ভবনের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, মানব পাচার রোধে শক্তিশালী আইন প্রণয়ন এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরি। সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে অপরাধী চক্র গড়ে ওঠার সুযোগ কমে যাবে এবং মানব পাচারের মতো অপরাধ কার্যকরভাবে দমন করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, আইনের শাসনের অভাবে তৃণমূল পর্যায়ে নানা ধরনের অবিচার ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে অর্ধশিক্ষিত ও নিরক্ষর মানুষ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে না পারায় প্রতারণার ফাঁদে পড়ে মানব পাচারের শিকার হন।

রিজভীর ভাষ্য, অনেকেই সামান্য জমিজমা বিক্রি করে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সুযোগে দালাল ও প্রতারক চক্র তাদের ফাঁদে ফেলে। পরে অনেককে বিদেশে পৌঁছানোর আগেই কিংবা গন্তব্যে গিয়ে আইনগত জটিলতার কারণে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এতে তারা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন।

তিনি আরও বলেন, মানব পাচারের পেছনে রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা কারণ রয়েছে। রাষ্ট্রহীনতা, সীমিত কর্মসংস্থান, বাস্তুচ্যুতি এবং শিক্ষার অভাব এ সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।

বাল্যবিবাহও মানব পাচারের একটি কারণ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে ও সন্তান হওয়ার কারণে অনেকেই লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেন না। শিক্ষা ও আত্মনির্ভরতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তারা মানব পাচারের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন।

রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকেই সবচেয়ে বেশি মানুষ মানব পাচারের শিকার হচ্ছে। তাই নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধী চক্র যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, “কোনো চক্রের কতটা প্রভাব রয়েছে, তা দেখার দরকার নেই। তাকে দমন করাই মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। প্রত্যেক মানুষের নাগরিক অধিকার হিসেবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দাসত্বের বন্ধনে গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ নানাভাবে জড়িয়ে পড়বে।”

 

শু/আজা

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত