সাদিক কায়েমের দক্ষিণ সিটিতে মেয়র প্রার্থী হওয়ার আলোচনা, জাতীয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত
ছাত্রত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বিদায় নিয়েছেন সংগঠনটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েমসহ নয়জন কেন্দ্রীয় নেতা। বিদায় নেওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলামও।
সোমবার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুই দফায়—ষাণ্মাসিক ও বার্ষিক—নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়। এবার ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় নয়জন কেন্দ্রীয় নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছেড়েছেন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রীয় পর্ষদের সভায় শূন্য হওয়া পদগুলোতে নতুন দায়িত্বশীল নির্বাচন করা হবে।
দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া অন্য নেতারা হলেন—কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ শাহেদী, মানবসম্পদ উন্নয়ন (এইচআরডি) সম্পাদক শরীফ মাহমুদ, ছাত্র অধিকার সম্পাদক মুহিবুর রহমান মুহিব, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক নূরুল হুদা, পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন মিলন, বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান আরমান এবং দাওয়াহ সম্পাদক শাহীন আহমেদ।
দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে জানান আবু সাদিক কায়েম। তিনি লেখেন, “বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আমার আবেগ ও ভালোবাসার সংগঠন। দীর্ঘ এক সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। সংগঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ আমার আনুষ্ঠানিক ছুটি হয়েছে। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও ফলপ্রসূ সময়গুলো কেটেছে এই কাফেলার সঙ্গে।”
পরে গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে সাদিক কায়েম বলেন, ছাত্রসংগঠন থেকে বিদায় নিলেও তিনি এখনই ডাকসুর দায়িত্ব ছাড়ছেন না। ডাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে, আগামী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হিসেবে আবু সাদিক কায়েমকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো ঘোষণা দেননি তিনি। সাদিক কায়েম বলেন, “জাতীয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার লক্ষ্যেই ছাত্রসংগঠন থেকে বিদায় নিয়েছি। তবে ডাকসুর মেয়াদ পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ছাত্ররাজনীতির দায়িত্বেই থাকছি। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত জানাব।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জামায়াত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েমের নাম আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে জামায়াত-সমর্থিত সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নাম আলোচিত হচ্ছে।
ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নেওয়ার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন বিদায়ী কয়েকজন নেতা। কেন্দ্রীয় ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক নূরুল হুদা বলেন, “জামায়াতে ইসলামীতে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্ষদের সভার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।”
একই ধরনের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বিদায়ী মিডিয়া সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ শাহেদীও। তিনি বলেন, “আমি জামায়াতে ইসলামীতে যুক্ত হব।”
ডাকসু ও জকসুর মেয়াদ
গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে আবু সাদিক কায়েমের নেতৃত্বাধীন ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল জয়ী হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমান মেয়াদ আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে বিধি অনুযায়ী আরও তিন মাস দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হতে পারে।
অন্যদিকে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম। তার নেতৃত্বাধীন পরিষদের মেয়াদ আগামী বছরের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।
ষাণ্মাসিক নেতৃত্ব পরিবর্তনের নিয়ম
ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিগবা বলেন, সংগঠনে প্রতি বছর দুটি পর্যায়ে নেতৃত্ব পুনর্গঠন করা হয়। বছরের মাঝামাঝি সময়ে যেসব নেতা ছাত্রজীবন শেষ করে পেশাজীবন বা জাতীয় রাজনীতিতে যেতে চান, তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় দেওয়া হয়। এটি সংগঠনের নিয়মিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ।
ছাত্রশিবির সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবারের কেন্দ্রীয় পর্ষদ সভায় শূন্য হওয়া নয়টি পদে নতুন দায়িত্বশীল নির্বাচন করা হবে।