কক্সবাজারের উখিয়া ইনানী সৈকতের বে-ওয়াচ হোটেল সংলগ্ন, চলাচলের নালাসদৃশ স্থান থেকে আবদুল আজিজ (২৪) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অর্থাৎ বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে ইনানী বে-ওয়াচ হোটেল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহত আবদুল আজিজ (২৮) উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত রশিদ আহমেদের ছেলে। তিনি বিবাহিত ও তিন কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তার আকস্মিক মৃত্যুতে স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনরা অসহায় হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়সুত্রে জানা যায়, আবদুল আজিজের পরিবার আগে ইনানী এলাকায় বসবাস করলেও প্রায় ১৭ বছর আগে জুম্মাপাড়ায় স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে। জীবিকার তাগিদে তিনি গত প্রায় দুই বছর ধরে ইনানীর বে-ওয়াচ হোটেলে খামার দেখাশুনার কাজে কর্মরত ছিলেন। হোটেলের গরু, ছাগল ও মুরগির দেখভাল, নিয়মিত খাবার দেওয়া এবং খামারের সার্বিক পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করতেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কয়েকজন যুবক কাঁকড়া ধরতে গিয়ে ইনানী বে-ওয়াচ হোটেলের স্টাফ কোয়ার্টারের পাশের একটি দেয়ালসংলগ্ন পানি চলাচলের নালাসদৃশ স্থানে আবদুল আজিজের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা নিহতের ভাই দুলালকে বিষয়টি জানালে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায় মৃত ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন। তাদের ধারণা কে বা কারা তাকে খুন করে মৃতদেহ সমুদ্রের পাশে ফেলে দিয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে স্ত্রীর বুকফাটা আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। স্বজনদের কান্নায় উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে বারবার ভেসে আসে একটাই প্রশ্ন, কীভাবে থেমে গেল এক স্ত্রী ও তিন কন্যা সন্তানের ভরসাস্থল এই তরুণের জীবন?
ঘটনার খবর পেয়ে উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা প্রয়োজন। এ জন্য হোটেল এলাকার সব সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা উচিত। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ থাকলে, সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।
বে-ওয়াচ হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। হোটেল এলাকার চারপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, আবদুল আজিজের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা বা বিরোধ ছিল বলে তাদের জানা নেই।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শু/আজা