রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বেছে নিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মির্জা ফখরুলের নাম প্রস্তাব করেন। পরে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে তা অনুমোদন করেন। প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল। একই দিন তাঁর পক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে বিএনপি।
বৈঠক চলাকালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’

আজ দুপুর ১২টার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বৈঠককক্ষে দলের স্থায়ী কমিটির এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, চিফ হুইপ ও হুইপরা উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণার পর তাঁকে শুভেচ্ছা জানান দলের নেতারা। বৈঠকের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে মধ্যাহ্নভোজ করেন।
মির্জা ফখরুলকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন। বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন।
মহাসচিবের পদে কে আসবেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যানের ওপর দেওয়া হয়েছে। তিনি দলের নেতাদের সঙ্গে মতামত নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন।
এর আগে গত ১০ আগস্ট বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়েছিল। তখন থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছিল। তবে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হলো।
প্রার্থী ঘোষণার পরপরই মির্জা ফখরুলের পক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে বিএনপির প্রতিনিধি দল মনোনয়নপত্র জমা দেয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি মনোনয়নপত্র জমা দেয়। মির্জা ফখরুলের পক্ষে প্রস্তাবক হয়েছেন আব্দুল মঈন খান, যিনি নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য।
এর আগে গত ৯ আগস্ট আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন থেকে মির্জা ফখরুলের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আজ ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা। ভোটগ্রহণ হবে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’-এর ৫(৩) ধারা অনুযায়ী স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে।
এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটাভুটির প্রয়োজন হবে। বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিয়েছে। ওই জোটের প্রার্থী হয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ। তিনিও আজ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
ফলে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে। তবে জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। এ কারণে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরও যদি একাধিক প্রার্থী থাকেন, ২০ আগস্ট সংসদে ভোটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হবে।
রাষ্ট্রপতি পদটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া সাহাবুদ্দিন নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বঙ্গভবন ছাড়েন।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনিই এ দায়িত্ব পালন করবেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্ব আসবে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে দলটির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর এখন নির্ভর করছে বিএনপির নতুন মহাসচিব কে হবেন।