রেলযাত্রায় কাউন্টারে টিকিট না পাওয়া গেলেও কালোবাজারিদের কাছে সহজেই টিকিট পাওয়া যায়—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে এবার সেই টিকিটও যে ডুপ্লিকেট হতে পারে, তারই ভুক্তভোগী হয়েছেন জামালপুরের পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা যাত্রীদের টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
জানা যায়, গত শুক্রবার জামালপুর থেকে ঢাকায় যাওয়ার জন্য পাঁচ বন্ধু কাউন্টারে টিকিট না পেয়ে কালোবাজারির কাছ থেকে তিনটি টিকিট কেনেন। ওই তিনটি টিকিটে পাঁচজনের আসন ছিল। ৭ ও ৮ আগস্ট তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র ট্রেনের এসব টিকিট তাদের দেওয়া হয়।
৭ আগস্ট দুই শিক্ষার্থী তিস্তা ট্রেনে জামালপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। ময়মনসিংহ স্টেশন পার হওয়ার পর টিকিট পরীক্ষক টিকিট দেখতে চাইলে তারা মোবাইল ফোনে থাকা টিকিট দেখান। পরে টিকিটের কিউআর কোড স্ক্যান করে দেখা যায়, সেটি ডুপ্লিকেট টিকিট।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাদের জামালপুর থেকে ঢাকার ভাড়ার দ্বিগুণ জরিমানা দিতে হয়।
ভুক্তভোগী পাঁচ শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা বলেন, কাউন্টারে টিকিট না থাকলেও কালোবাজারিদের কাছে সবসময় টিকিট পাওয়া যায়। ট্রেন ছাড়ার কয়েক মিনিট আগেও তারা টিকিট সরবরাহ করে। এত দিন বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ থাকলেও এবার তারা নতুন ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন।
তারা বলেন, শিক্ষার্থীরা ছুটিতে বাড়িতে এসেছিল। ক্লাস শুরু হওয়ায় তাদের ঢাকায় ফিরতে হচ্ছিল। কাউন্টারে টিকিট না পেয়ে কালোবাজারিদের কাছ থেকে পাঁচজনের জন্য তিনটি টিকিট কেনা হয়। পরে যাত্রাপথে সেগুলো ডুপ্লিকেট প্রমাণিত হলে অতিরিক্ত জরিমানা দিয়ে ঢাকায় যেতে হয়েছে।
অভিভাবকেরা অভিযোগ করেন, রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। একই সঙ্গে যাত্রীদের টিকিট কেনার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তারা।
জামালপুর রেলওয়ের সহকারী স্টেশন মাস্টার আব্দুস সালাম বলেন, কালোবাজারিরা একটি টিকিটের কপি করে একই টিকিট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে। এ ধরনের অভিযোগ এর আগেও কয়েকজন যাত্রী করেছেন। এতে যাত্রীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় স্টেশন কর্তৃপক্ষের করণীয় সীমিত। তাই যাত্রীদের অনলাইন বা নির্ধারিত কাউন্টার থেকে টিকিট কেনার পরামর্শ দেন তিনি। কালোবাজারিদের কাছ থেকে টিকিট না কেনার জন্যও সতর্ক করেন।
কালোবাজারির কাছ থেকে টিকিট কিনলে সেটি আসল নাকি একই টিকিটের কপি—তা নিশ্চিত করা কঠিন। তাই নিরাপদ যাত্রার জন্য নির্ধারিত কাউন্টার অথবা রেলওয়ের অনুমোদিত অনলাইন মাধ্যম থেকেই টিকিট কেনা উচিত।
শু/আজা