মর্যাদার সঙ্গে নিরাপদ জীবন চান শিক্ষকরা

শিক্ষক দিবসে ফুলের শুভেচ্ছা, জীবনে বেতন-বৈষম্য ও অবসরের অনিশ্চয়তা

শফিক কলিম
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১০
 ছবি:

নতুন পে স্কেলেও ধাপে ধাপে বেতন, অবসরের টাকার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা

শিক্ষককে বলা হয় জাতি গড়ার কারিগর। শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবই পড়ান না, শেখান শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সেই শিক্ষকের হাতেই ওঠে ফুল, ক্রেস্ট ও সম্মাননা। কিন্তু শ্রেণিকক্ষের বাইরে তাঁর নিজের জীবন কতটা নিরাপদ—সেই প্রশ্নের উত্তর সব সময় স্বস্তিদায়ক নয়।

বেতন-বৈষম্য, পদোন্নতিতে দীর্ঘসূত্রতা, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব, পেশাগত অনিশ্চয়তা এবং অবসরের পর প্রাপ্য অর্থ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা—দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকদের কাছে এসব এখনো বড় বাস্তবতা। নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো–২০২৬ নিয়ে আশার আলো দেখা গেলেও সেটি পুরোপুরি কার্যকর হতে সময় লাগছে। অন্যদিকে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণসুবিধার দীর্ঘ জট পুরোপুরি কাটেনি।

এবার বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদার অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ’। ১৯৬৬ সালে আইএলও ও ইউনেস্কোর শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকারবিষয়ক সুপারিশের ৬০ বছর পূর্তির বছরে বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। প্রথমবারের মতো এ বছর প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ১০০ জন শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ দেওয়া হলো। তাঁদের প্রত্যেককে নগদ দুই লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়ার কথা রয়েছে।

কিন্তু শিক্ষকদের বড় একটি অংশের প্রশ্ন—সম্মাননা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন এমন একটি কর্মজীবন, যেখানে একজন শিক্ষক সংসারের ব্যয় মেটানো, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা কিংবা নিজের অবসরজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকবেন না।

নতুন পে স্কেলে আশার সঙ্গে অপেক্ষা

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ১১ বছর পর নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নতুন কাঠামোর পুরো সুবিধা একবারে মিলছে না। অর্থ বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরোনো ও নতুন মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ দেওয়া হবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেওয়া হবে পার্থক্যের ৭০ শতাংশ। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। নতুন কাঠামোর ভাতাগুলো কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীরা প্রায় তিন মাসের বকেয়াও পাওয়ার কথা রয়েছে।

শিক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন পে স্কেলের আওতায় থাকছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক জানিয়েছেন, তাঁদের নতুন পে স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করতে আলাদা প্রজ্ঞাপনের প্রয়োজন হবে না; জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমেই তাঁরা বেতন-ভাতা পাবেন।

তবে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বেতন-বৈষম্যের সব প্রশ্ন শুধু নতুন মূল বেতন বাড়ালেই শেষ হচ্ছে না। বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, পদোন্নতি, বদলি ও অবসর সুবিধার ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থায় এমপিওভুক্ত কলেজের নতুন প্রভাষকেরা নবম গ্রেডে এবং স্কুলের সহকারী শিক্ষকেরা যোগ্যতা অনুযায়ী দশম বা একাদশ গ্রেডে চাকরি শুরু করেন। তাঁদের বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা সুবিধাও সরকারি চাকরির তুলনায় সীমিত।

প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন ও গ্রেডসংক্রান্ত বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়ে আসছেন। প্রাথমিক শিক্ষক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি মু. মাহবুবর রহমানের ভাষ্য, আর্থিকভাবে স্বস্তিতে থাকলে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ ও উদ্যম নিয়ে কাজ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদও শিক্ষকদের বেতন ও পেশাগত অধিকারসংক্রান্ত বৈষম্যের যৌক্তিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষেই থাকতে চান; তাঁদের ন্যায্য দাবিগুলোর সমাধান হলে আন্দোলনের প্রয়োজনও কমবে।

পে স্কেল এসেছে, কিন্তু হিসাবেও জটিলতা

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সঙ্গে আরেকটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে—পে ফিক্সেশন। সরকারি শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নতুন কাঠামোয় নির্ধারণের সময় আগের পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও চাকরির বিভিন্ন পর্যায়ের বেতন নির্ধারণের তথ্য যাচাই করতে হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগের বেতন কাঠামোয় টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণে কিছু জটিলতা রয়েছে। এসব তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করেই নতুন বেতন ও বকেয়া নির্ধারণ করতে হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরও অধীন মাঠপর্যায়ের কার্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য চেয়েছে। আইবাস++-এর মাধ্যমে বেতন-ভাতা ও পেনশন কার্যক্রম সহজ ও স্বচ্ছ করার জন্য প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ চলছে। শিক্ষকদের কাছে তাই নতুন পে স্কেল শুধু বেতন বাড়ার খবর নয়; সঠিকভাবে বেতন নির্ধারণ, বকেয়া পাওয়া এবং ভবিষ্যৎ পেনশন-সুবিধা কীভাবে হিসাব হবে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অবসরের পরও শেষ হয় না অপেক্ষা

শিক্ষকদের দুর্ভোগের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি অবসরকালীন সুবিধা। বিশেষ করে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ অবসরের পর তাঁদের প্রাপ্য অবসর ও কল্যাণসুবিধার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার এই জট কমাতে অর্থ ছাড় শুরু করেছে। অবসরসুবিধা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত আবেদন করা ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীর অনুকূলে অবসরসুবিধার একাংশের অর্থ ছাড় করা হয়েছে বা হচ্ছে। এ জন্য প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু এটিও পুরো পাওনা নয়। সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, ওই ৭০ হাজার ১১৯ জনের অবসরসুবিধার পুরো অর্থ পরিশোধ করতে প্রায় ৯ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা প্রয়োজন। অবসরসুবিধা বোর্ডে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। ফলে একবারে পুরো অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকেই অবসর ও কল্যাণ তহবিলের জন্য চাঁদা কেটে রাখা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তহবিলে জমা হওয়া অর্থের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্তদের পাওনার ব্যবধান তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মাসে অবসরসুবিধার জন্য প্রায় ১০৪ কোটি টাকা জমা হলেও অবসর নেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য পুরো অর্থ দিতে গড়ে প্রায় ২১০ কোটি টাকা প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ প্রতি মাসেই ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

চার বছর ধরে জমে থাকা অবসর ও কল্যাণ ভাতার জট নিরসনে সরকার এ বছর কার্যক্রম জোরদার করেছে। শিক্ষামন্ত্রী সংসদেও বলেছেন, বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণসুবিধা দ্রুত দেওয়ার লক্ষ্যে লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কাছে প্রশ্নটি শুধু টাকা ছাড়ের নয়—জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে নিজের পাওনা পেতে কেন এত দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে?

শিক্ষকের কণ্ঠে অভাব-অভিযোগ

শিক্ষকতা পেশায় দীর্ঘদিন কাটানো শিক্ষকদের অনেকের কাছে সবচেয়ে বড় হতাশা হলো, দায়িত্ব বাড়লেও সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা সেই অনুপাতে বাড়েনি। ঘাটাইলের খাজনাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসির উদ্দিনের অভিজ্ঞতায়, শিক্ষকসংকটের কারণে একজন শিক্ষককে একদিকে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান, অন্যদিকে প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলাতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স ফেডারেশনের সভাপতি নেকবর হোসেনের বক্তব্য, অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ে পাঠদানকারী প্রায় ৩ হাজার ৫০০ শিক্ষক এখনো এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁর মতে, শিক্ষকদের নানা স্তরের বঞ্চনার কারণেই তাঁদের বারবার দাবি নিয়ে সামনে আসতে হচ্ছে।

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি শিক্ষকদের সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তরবিষয়ক সম্পাদক নুরুল আমীনও দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, যে শিক্ষককে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁর নিজের জীবন যদি অনিশ্চয়তায় থাকে, তাহলে পেশাটির মর্যাদা ধরে রাখা কঠিন।

অন্যদিকে রাঙামাটির শাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইফফাত জাহানের অভিজ্ঞতা কিছুটা ভিন্ন। জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষক সম্মাননা পাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, স্বীকৃতি একজন শিক্ষককে আরও দায়িত্বশীল ও অনুপ্রাণিত করে। তাঁর মতে, স্থানীয় পর্যায়েও শিক্ষকদের কাজ মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্যদের স্বীকৃতি দেওয়া দরকার। এই পাঁচ শিক্ষকের বক্তব্যের ভেতর দিয়েই শিক্ষকসমাজের দুটি বাস্তবতা স্পষ্ট—একদিকে অধিকার ও আর্থিক নিরাপত্তার সংকট, অন্যদিকে প্রতিকূলতার মধ্যেও পেশাটির প্রতি দায়িত্ববোধ।

শিক্ষকসংকটেও বাড়ছে দায়িত্ব

শুধু বেতন বা অবসর সুবিধা নয়, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকসংকটও বড় সমস্যা। শিক্ষক কম থাকলে একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণি, বিষয় এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে হয়। এতে পাঠদানের মান ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক—দুটিই চাপের মুখে পড়ে। সরকার শিক্ষকসংকট ও দক্ষতা উন্নয়নে একাধিক উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় ৩৬ হাজার ৯৬০টি প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব পদোন্নতির ফলে শূন্য হওয়া সহকারী শিক্ষক পদে ২০২৭ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে পেনশন ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়েও শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। শিক্ষকতা পেশাকে আরও আকর্ষণীয় করতে প্রশিক্ষণ, সামাজিক নিরাপত্তা ও পেশাগত উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে।

সম্মাননা থেকে অধিকার—যেখানে যেতে চান শিক্ষকরা

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে এবার ১০০ শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রতীকী ও পেশাগত স্বীকৃতির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শিক্ষকসমাজের প্রত্যাশা এর চেয়েও বড়। তাঁরা চান, নতুন পে স্কেলের সুবিধা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পাওয়া যাবে; বেতন নির্ধারণে কোনো জটিলতায় পড়তে হবে না; সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের অযৌক্তিক বৈষম্য কমবে; পদোন্নতি হবে নিয়মিত; শিক্ষকসংকট দূর হবে; বদলি ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে এবং অবসরের পর প্রাপ্য অর্থের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না।

শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অবসর ও কল্যাণসুবিধার জট কমানো, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর কাজ চলছে। সরকারের লক্ষ্য শিক্ষকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার করা।

শিক্ষাবিদদের দৃষ্টিতে, আদর্শ শিক্ষক তৈরি শুধু প্রশিক্ষণের বিষয় নয়। একজন শিক্ষক তখনই শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চটা দিতে পারেন, যখন তাঁর নিজের জীবনেও ন্যূনতম নিরাপত্তা থাকে। সংসারের ব্যয়, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা, পদোন্নতি কিংবা অবসরের পর জীবিকা—প্রতিটি বিষয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে শিক্ষকতার প্রতি দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহ ধরে রাখা কঠিন। সে কারণে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের হাতে ফুল তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের জীবনের বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধানই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সম্মান। কারণ একজন শিক্ষক শুধু একটি ক্লাসের দায়িত্ব নেন না; তাঁর হাতে থাকে একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।

শিক্ষককে সত্যিকার অর্থে মর্যাদা দিতে হলে সেই মর্যাদা বেতন কাঠামোতে, কর্মপরিবেশে, পদোন্নতিতে, সামাজিক নিরাপত্তায় এবং অবসরের পর প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার নিশ্চয়তায়ও প্রতিফলিত হতে হবে। **শিক্ষক দিবসের এক দিনের সম্মান যেন সারা বছরের অধিকার ও নিরাপত্তায় রূপ নেয়—এটাই এখন শিক্ষকসমাজের বড় প্রত্যাশা।

১

বিদায়ী ম্যাচে খেলতে রাজি ছিলেন না মেসি!

২

কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগাল

৩

জরিমানার কবলে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ

৪

পূজা উদযাপন পরিষদের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের মতবিনিময়

৫

বিশ্বের অন্যতম উৎপাদন কেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

৬

শেষবার আকাশি-সাদা জার্সিতে মেসি, প্রস্তুত বিদায় মঞ্চ

৭

‘এক টাকার শিক্ষক’ পেলেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা

৮

গাইবান্ধায় ছয় মাসে কুকুর-শিয়ালের কামড়ে শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু

৯

কোনো দুই নম্বরি কাজ আমার আমলে কোথাও করা যাবে না - ত্রাণমন্ত্রী দুলু

১০

সদরপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

১১

৬ কোটি টাকার ভবন নির্মাণ, খাস জমি ব্যবহারের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

১২

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরে বিএনপির দুই নেতা নেতৃত্ব দিয়েছেন: আসিফ মাহমুদের

১৩

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, গ্রেপ্তারের ৫ দিন পর জামিন পেলেন গোলাম মহিউদ্দিন

১৪

সহকর্মীদের বেতন জোগাতে নৌকা চালানো প্রধান শিক্ষক পেলেন প্রধানমন্ত্রীর সম্মাননা

১৫

৩৬ দিনের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি ঘোষণা করল ইনকিলাব মঞ্চ

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত