ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রত্যাশা নিয়ে অভিভাবকেরা সন্তানদের মাদরাসায় পাঠান। তাঁদের আশা, সেখানে শিশুরা নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করবে, নৈতিকতা শিখবে এবং দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন মাদরাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সামনে আসায় সেই নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে অক্টোবর মাসে গাজীপুর, সাভার, কুষ্টিয়া ও পাবনাসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন অভিযোগ ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কোথাও মামলা ও গ্রেপ্তার হয়েছে, কোথাও অভিযোগের পর উত্তেজিত জনতার হাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
উদ্বেগের মাত্রা বোঝাতে মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ফ্রান্সের (জেএমবিএফ) একটি পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য উদ্ধৃত করে *ইত্তেফাক* জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে দেশের বিভিন্ন মাদরাসায় ৭২টি ঘটনায় অন্তত ১০৯ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এটি সংস্থাটির নথিভুক্ত ঘটনার হিসাব; দেশের সব ঘটনা নিয়ে সরকারি পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নয়। তবে এ তথ্য শিশু সুরক্ষায় কার্যকর নজরদারি ও প্রতিরোধব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
প্রশ্ন উঠছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের তদারকি কতটা কার্যকর? অভিযোগ উঠলে তা কীভাবে সামাল দেওয়া হয়? শিশুরা ভয় বা চাপ ছাড়াই অভিযোগ জানানোর সুযোগ পায় কি না? আর অপরাধের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা কতটা কার্যকর?
লেখক ও বিশ্লেষক শরীফ মুহাম্মদের মতে, মাদরাসাগুলোর অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি এবং জবাবদিহির স্বচ্ছ পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব মূলত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারীদের নিজেদের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আপনার ঘর আসলে আমি পরিষ্কার করতে পারবো না, যদি আপনার আগ্রহ কম থাকে।’ তাঁর বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব দায়বদ্ধতার বিষয়টি উঠে এসেছে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার অজুহাতে তা এড়িয়ে যাওয়া কিংবা অভ্যন্তরীণভাবে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা শিশুর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ, শিশুকে সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখা এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো জরুরি।
শরীফ মুহাম্মদ মনে করেন, শিশুদের নিরাপত্তায় অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। মাদরাসা প্রাঙ্গণের ভেতরে ও বাইরে, দিনে ও রাতে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান এসব ঘটনার পেছনে সুস্পষ্ট জাতীয় শিক্ষা দর্শন ও সমন্বিত শিক্ষানীতির অভাবের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, নৈতিক অবক্ষয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের প্রতি কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
অধ্যাপক মজিবুর রহমান শিশুদের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে আইনগত ব্যবস্থা ও সচেতনতা বাড়ানোর কথাও বলেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের অপরাধের শাস্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের ভালো ও খারাপ স্পর্শের পার্থক্য বোঝানো প্রয়োজন। তবে শিশুদের সচেতন করার দায়িত্ব শুধু তাদের ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না। অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও শিশু সুরক্ষা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা থাকা দরকার।
সচেতনতা, কাউন্সেলিং ও সুরক্ষা নীতিমালা
শিশু অধিকারকর্মী ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিমও শিশুদের সচেতন করার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহায়তাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। *ইত্তেফাক*-এর প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মাদরাসাসহ প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’—ভালো ও খারাপ স্পর্শ—সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পেশাদার কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন, যাতে শিশুরা ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই অভিযোগ জানাতে পারে।
এই পরামর্শের বাস্তব গুরুত্ব রয়েছে। কোনো শিশু অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার হলে সে সব সময় সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি প্রকাশ করতে পারে না। ভয়, লজ্জা, অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রভাব কিংবা কাউকে বললে শাস্তি পাওয়ার আশঙ্কা তাকে নীরব রাখতে পারে। তাই শিশুদের বয়স ও মানসিক বিকাশ অনুযায়ী সচেতন করার পাশাপাশি এমন পরিবেশ তৈরি করা জরুরি, যেখানে তারা বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে নিরাপদে নিজেদের কথা বলতে পারে।
শিশু কোনো অভিযোগ জানালে তাকে দোষারোপ করা, অবিশ্বাস করা বা বারবার জেরা করা উচিত নয়। বরং তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রশিক্ষিত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। অভিযোগকারী শিশুর পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
ফাওজিয়া করিমের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি এবং শিশু সুরক্ষার নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধু নীতিমালা তৈরি করলেই হবে না; বাস্তবে তা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও নিয়মিত যাচাই করতে হবে।
তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ
শিশুদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ক্ষেত্রে অপরাধ প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান *ইত্তেফাক*-কে বলেছেন, ছেলে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে শারীরিক পরীক্ষা, নমুনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ফরেনসিক পরীক্ষার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি বা নির্দেশনার ঘাটতি রয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের ঘাটতির কারণে চিকিৎসা ও ডিএনএ পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ আদালতে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা কঠিন হতে পারে।
এ বক্তব্যের আলোকে অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ও শিশুবান্ধব পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পরীক্ষা এবং প্রমাণ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পাশাপাশি তদন্তকারী কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সমন্বয় থাকা দরকার, যাতে প্রমাণ সংগ্রহের কোনো পর্যায়ে অবহেলা না হয়। অভিযোগের তদন্ত দীর্ঘায়িত হলে ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবারের ওপর মানসিক চাপ বাড়তে পারে। তাই শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
তবে অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী ধরে নেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি প্রতিষ্ঠানের সুনাম বা অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয়ের কারণে অভিযোগ উপেক্ষা করাও গ্রহণযোগ্য নয়। নিরপেক্ষ তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণের মূল্যায়ন এবং আইন অনুযায়ী বিচার—এই তিনটি বিষয়ই নিশ্চিত করতে হবে।
আবাসিক মাদরাসায় তদারকি কতটা কার্যকর?
আবাসিক মাদরাসায় শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকে। ফলে তাদের দৈনন্দিন দেখভাল, শিক্ষক ও কর্মীদের আচরণ, আবাসিক পরিবেশ এবং অভিযোগ জানানোর সুযোগ—সবকিছুই নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ।
প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশু সুরক্ষাবিষয়ক লিখিত নীতিমালা, অভিযোগ গ্রহণের নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং অভিযোগের গোপনীয়তা রক্ষার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। শিক্ষক ও কর্মীদের আচরণবিধি স্পষ্ট করতে হবে। শিশুদের সঙ্গে একান্তে থাকার পরিস্থিতিতে কী ধরনের সতর্কতা অনুসরণ করা হবে, অভিযোগ উঠলে শিশুকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখা হবে এবং তদন্ত চলাকালে ঝুঁকি কীভাবে কমানো হবে—এসব বিষয়ে আগেই নির্দেশনা থাকা দরকার।
এ ক্ষেত্রে শুধু মাদরাসা কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তদারকি যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বও রয়েছে। নিয়মিত পরিদর্শন, অভিযোগের তথ্য সংরক্ষণ, শিশু সুরক্ষাবিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। অভিভাবকদেরও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে জানার এবং উদ্বেগ প্রকাশের সুযোগ থাকা উচিত।
অভিযোগের পর সহিংসতা নয়, আইনের প্রয়োগ
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় অভিযোগের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মারধর এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনাও সামনে এসেছে। এতে শিশুর প্রতি কথিত অপরাধের তদন্তের পাশাপাশি নতুন করে সহিংসতার অভিযোগ তৈরি হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।
অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে; কাউকে শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব উত্তেজিত জনতার নয়। গণপিটুনি বা ভাঙচুরের মতো ঘটনা বিচারপ্রক্রিয়াকে জটিল করতে পারে এবং অন্যদের নিরাপত্তাও বিপন্ন করতে পারে। একই সঙ্গে এসব ঘটনার কারণে মূল অভিযোগের তদন্ত যেন আড়ালে পড়ে না যায়, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক মাদরাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে। এ ঘটনায় শিশুর জবানবন্দি রেকর্ড এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।
এই ধরনের ঘটনায় শিশুর সুরক্ষা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ—সবকিছুকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অভিযোগকারীর পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
প্রতিরোধের দায়িত্ব সবার
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট: মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জবাবদিহি, প্রশাসনিক তদারকি, অভিভাবকের অংশগ্রহণ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয় প্রয়োজন। পাশাপাশি শিশুদের বয়স উপযোগী সচেতনতা, শিক্ষক ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ, পেশাদার কাউন্সেলিং এবং কার্যকর অভিযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
শিশুদের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধের দায়িত্ব শুধু কোনো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের নয়। অভিভাবক, শিক্ষক, পরিচালনা কমিটি, শিক্ষা কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। অভিযোগ গোপন না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো, শিশুকে নিরাপদ রাখা এবং প্রমাণভিত্তিক তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি।
মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক নজরদারি ও জবাবদিহি। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী বিচার এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।