কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের একটি আচারের দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সদস্য মো. মাকসুদ আকনকে গ্রেপ্তার করেছে মহিপুর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, একই দিন বেলা ১১টার দিকে কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থিত ‘তানিসা আচার ঘর’ নামের একটি দোকানে কয়েকজন যুবক হামলা চালায়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক মো. মনিরুল হাওলাদার তিনজনকে আসামি করে মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান অভিযুক্ত মো. মাকসুদ আকনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কুয়াকাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করে পটুয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক মো. আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, দোকানটির ম্যানেজার মো. হাসান প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালন করছিলেন। সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে মাকসুদ আকনসহ তিন-চারজন দোকানে এসে তাকে বাইরে যেতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে হাসানকে মারধর করা হয় এবং দোকানের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এ সময় দোকান থেকে নগদ ২২ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়।
দোকান মালিক মনিরুল হাওলাদার বলেন, “মাকসুদ আমার দোকানে লুটপাট করেছে। সে তিন লাখ টাকা দাবি করে বলে, নাকি একজনের কাছ থেকে টাকা দিয়ে দোকান ভাড়া নিয়েছে। আমাকে দোকান ছাড়তে বলে, না হলে টাকা দিতে বলে।” তিনি দাবি করেন, ভাঙচুরে তার প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
মনিরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বারেক মোল্লার কাছ থেকে দোকানটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কিছু ব্যক্তি জমিটির মালিকানা দাবি করছেন। তাদের একজনের কাছ থেকে চুক্তিপত্র নিয়েছেন বলে দাবি করে মাকসুদ আকন দোকান ছাড়ার চাপ দেন—এমন অভিযোগও করেন তিনি।
মাকসুদ আকন পুলিশ হেফাজতে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার চাচাতো ভাই মামুন আকন বলেন, জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। “সে চাঁদা দাবি করেনি, শুধু দোকান ছাড়তে বলেছিল। চুক্তির জন্য সে কিস্তিতে টাকা দিয়েছে। আমরা বিষয়টির আইনি সমাধান চাই,” বলেন তিনি।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান বলেন, “প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।