খাল খনন শেষে সরকারি কোষাগারে ১কোটি ৩৯লাখ টাকা জমা দিয়েছে নওগাঁ জেলা প্রশাসক

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

আহসান হাবীব শিপলু নওগাঁ প্রতিনিধিঃ প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার মোতাবেক সারা দেশে মরা খালগুলো পুন:খননের উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় নওগাঁর ১০টি উপজেলার ১৩টি খাল খনন/পুন:খননকৃত করার জন্য অর্থ বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ইতোমধ্যেই খননকৃত খাল থেকে উপকার পেতে শুরু করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। খননকৃত খালগুলো ছিলো মৃতপ্রায়। বর্তমানে এই খালগুলো খননের পর বৃষ্টির পানি জমেছে। খালে জমে থাকা সেই পানি দিয়ে খাল পারের মানুষরা তাদের জমিতে চাষাবাদ শুরু করেছে।

আবার খালে জমে থাকা পানিতে অনেকেই হাঁস পালন করছে, অনেকেই মাছ ধরছেন। এছাড়া খালের দুই পার দিয়ে রোপন করা হয়েছে নানাবিধ পরিবেশবান্ধব গাছ। আর এই খাল খননের কারণে স্থানীয় বেকার ও অসহায় মানুষদের মৌসুম ভিত্তিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হয়েছে। ইতোমধ্যেই সবগুলো খাল খননের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। খাল খননে সরকারী বরাদ্দকৃত অর্থ খরচের পর বেঁচে যাওয়া ১ কোটি ৩৯লাখ ৮৫হাজার ৮টাকা সরকারের কোষাগারে ফেরত দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক ও স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর উপজেলার ১কিমি দৈঘের্যর শ্যামপুর মেইন রাস্তা হয়ে হরিপুর হয়ে কালুপাড়া বিল অভিমুখে খাল পুন:খননের জন্য ৭১লাখ ১০হাজার ৮শত ৭৯ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৫২লাখ ৪৫হাজার ৭শত ২৮টাকা ব্যয়ে খাল খননের পর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে ১৮ লাখ ৬৫ হাজার ১শত ৫১ টাকা। এছাড়া ২.০৪০ কিমি দৈঘের্যর হামড়ার বিল হতে কৃষ্ণপুর অভিমুখে খাল পুন:খননের জন্য ৯০ লাখ ৪২ হাজার ১৫ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৬৭ লাখ ৫৭ হাজার ৯ শত ৬৫ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০ টাকা।

রাণীনগর উপজেলার ৩ কিমি দৈঘের্যর দেওলা বড়গাছা ব্রিজ হতে মালশন গিরিগ্রাম অভিমুখে খাল পুন:খনন কাজের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮ শত ৪২টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যথাযথ মান বজায় রেখে এবং স্থানীয় বেকার ও অসহায় মানুষদের অংশগ্রহণে খাল পুন:খনন কাজে ৭২ লাখ ৬০ হাজার ৯ শত ৩২ টাকা ব্যয় করার পর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৯ শত ১০ টাকা।

আত্রাই উপজেলার ১.১৪০কিমি দৈঘের্যর নওদাপাড়া সিংসাড়া খাল হতে শুকচারা মাঠ অভিমুখে খাল পুন:খনন কাজের জন্য ২৯ লাখ ৩৯ হাজার ৬ শত ২৬ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। খনন কাজে ২৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয় শেষে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৬ শত ২৬ টাকা।
বদলগাছি উপজেলার ০.৭৫০ কি,মি দৈঘের্যর চাঁপাইনগর বছিরের বাড়ি হতে আধাইপুর শেষ মাথা পর্যন্ত খাল পুন:খননের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯ শত ৯৫ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ৬ শত ৫ টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে ১১ লাখ ৭৩ হাজার ৩শত ৯০ টাকা। এছাড়া ১.২কিমি দৈঘের্যর ঢেঁকড়া সফির জমি হতে খোর্দ্দভূবন ব্রিজ পর্যন্ত খাল/ক্যানেল সংস্কারের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮ শত ৪২ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৪৮ লাখ ২৯ হাজার ৬ শত ৩২ টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে ২৮ লাখ ৯৯ হাজার ২শত ১০টাকা। বদলগাছি উপজেলা থেকে খাল খনন ও সংস্কার কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে সবচেয়ে বেশি অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।

মহাদেবপুর উপজেলার ২.৩ কিমি দৈঘের্যর নারায়ণপুর ব্রিজ থেকে কুড়াইল গ্রামের শেষ মাথা পর্যন্ত খাল পুন:খননের জন্য ৫৯ লাখ ২৬ হাজার ৪শত ৪৯ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৪৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫শত টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে ১২ লাখ ৫০ হাজার ৯শত ৪৯ টাকা।

মান্দা উপজেলার ১.৫ কিমি দৈঘের্যর হারকিশোর মৌজার বিল উথরাইল ব্রিজ হতে বাদলঘাটা ব্রিজ পর্যন্ত খাল পুন:খননের জন্য ৫৪ লাখ ১১ হাজার ৪শত ৮০ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৫৪ লাখ ১হাজার ১শত ৫৩ টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ৩শত ২৭ টাকা। এছাড়া ২.১কিমি দৈঘের্যর বাঁকাপুর মৌজার বাঁকাপুর দফাদার মোড় মেইন রোড হতে বিল উথরাইল খাল পুন:খনন কাজের জন্য ৫৪ লাখ ৬২ হাজার ৯শত ৭৭ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৫৪ লাখ ৪২ হাজার ৭শত ৭৩ টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার ২শত ৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে এই দুটি খাল খনন কাজে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দায়সারানো ভাবে খালের খনন কাজ শেষ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

পোরশা উপজেলার ৩.২৫০কি,মি দৈঘের্যর ইলাম মৌজার মাক্তাপুর মোড় হতে হাতিখোচা বিল অভিমুখে খাল পুন:খননের জন্য ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫শত ৩৭ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। খনন কাজে ১ কোটি ১৫ লাখ ৮৮ হাজার ৮শত ৮৮ টাকা ব্যয় করার পর সরকারি কোষাগারে ১২ লাখ ৮৯ হাজার ৬শত ৪৯ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। 

নিয়ামতপুর উপজেলার ২কি,মি দৈঘের্যর বিষ্ণুপুর বাবুল হাজীর জমি হতে বিষ্ণপুর ব্রিজ হয়ে সন্তোষপাড়া ছাতড়া ব্রিজ পর্যন্ত খাল পুন:খনন কাজের জন্য ৬৪ লাখ ৪১ হাজার ৪শত ১৯ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৫৪ লাখ ৫৭ হাজার ৬শত ৫৭ টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ৯ লাখ ৮৩ হাজার ৭শত ৬২ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

পত্নীতলা উপজেলার ১.৮কি,মি দৈঘের্যর ০২নং ওয়ার্ডের চক আবদাল (কাষ্ণিপুকুর) ইট ভাটার নিকট হতে পত্নীতলা আবেদিয়া স্লুইসগেট অভিমুখে খাল খননের জন্য ৫৪ লাখ ৬৮ হাজার ১শত ২৬ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ৫শত ২৬ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬শত টাকা।
ধামইরহাট উপজেলার ২কি,মি দৈঘের্যর চৌঘাট ব্রিজ হতে দক্ষিণ দিকে ছিলিমপুর স্লুইসগেট পর্যন্ত খাল পুন:খননের জন্য ৫৭ লাখ ৪৬ হাজার ২শত ১০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৫৪ লাখ ৩০টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ১শত ৮০ টাকা। 

রাণীনগর উপজেলার দেউলাগ্রামের বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান, মালশন গ্রামের হাসেন আলীসহ অনেকেই বলেন দেওলা বড়গাছা ব্রিজ খালটি কখনোও পুন: খনন করা হয়নি। কিন্তু এবার পুন:খনন করার কারণে আমরা স্থানীয়রা ব্যাপক ভাবে উপকৃত হয়েছি। খালে জমে থাকা পানি দিয়ে শুষ্ক মৌসুমের চাষাবাদ করতে পারছি। আবার খালপারের গৃহিণারা খালের পানিতে হাঁস পালন করা শুরু করেছে। মাঠে গরু-ছাগল চরানোর সময় পশুরা খালের পানি খেতে পারছে। এছাড়া খালের পার দিয়ে অনেক গাছ লাগানো হয়েছে। এই গাছগুলো বড় হয়ে পথচারীদের যেমন ছাঁয়া দিবে তেমনি ভাবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠন করার পরই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দেশের মৃত প্রায় খালগুলো পুন:খননের উদ্দ্যোগ গ্রহণ করেন। মৃত খালগুলো খনন বা পুন:খননের ফলে পানিসম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, কৃষির উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব হবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। তাই সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক জেলার খালগুলো খনন কিংবা পুন:খনন করার চেস্টা করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তদারকির মাধ্যমে প্রতিটি খাল খনন করা হয়েছে। আর যেগুলোতে একটু সমস্যা দেখা গেছে সেগুলো পুনরায় মেরামত করা হয়েছে। এই খাল খননের ফলে জেলার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, জলাবদ্ধতার নিরসন হবে, মাছের বংশবৃদ্ধি হবে, পরিবেশ ও ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপ কম হবে।

 

শু/আজা

বিষয়:

নওগাঁ
এলাকার খবর

সম্পর্কিত