সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করতে দ্বিতীয় দফায় রাজস্থলী উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের অতি ক্ষতিগ্রস্ত ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজস্থলী উপজেলায় আয়োজিত এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে প্রত্যেক উপকারভোগীর মাঝে মাথাপিছু ১৭ কেজি করে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। ত্রাণ পেয়ে বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে চালসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন এবং তাদের দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য প্রতুল দেওয়ান, জেলা বিএনপির সদস্য মিশাচিং মারমা, রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান শেখ, গাইন্দ্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সোলেমান, সহসভাপতি ছগীর আহমেদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা, কৃষক দলের সভাপতি বিশু সাহা, সাধারণ সম্পাদক সুমন খান, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ভূবন তঞ্চঙ্গ্যা, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক লাকি মারমা, উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ওয়াইংম্রাসিং মারমাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার বলেন, “সাম্প্রতিক বন্যায় রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকার মানুষ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু ও জীবিকার উৎস হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই সংকটময় সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।”
তিনি আরো বলেন, “বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা পরিষদ সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। আজ আমরা যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছি, তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কষ্টের তুলনায় সামান্য হলেও তাদের পাশে থাকার আন্তরিক প্রচেষ্টা।”
দুর্যোগ মোকাবিলায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদেরও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে আমরা দ্রুত এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে পারব।”
পুনর্বাসনের বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে জেলা পরিষদ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও অসহায় মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
ত্রাণসামগ্রী পেয়ে উপকারভোগীরা রাঙামাটি জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ভয়াবহ বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি, খাদ্যসামগ্রী, ফসল ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এমন দুঃসময়ে জেলা পরিষদের খাদ্য সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসন, নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতকরণ এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠনে সরকার, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জেলা পরিষদের এই মানবিক উদ্যোগকে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাগত জানিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
শু/আজা