গাইবান্ধায় আড়াই বছর ধরে আটকে রয়েছে ৭টি সেতুর কাজ, ৪টি সেতুর কাজ শুরু হয়নি

রংপুর ব্যুরো:
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

গাইবান্ধায় ১১৬ কোটি ১০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ১১টি সেতু নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও নির্মাণাধীন সাতটি সেতুর কাজ প্রায় আড়াই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া চারটি সেতুর নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি। এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ‘রংপুর জোনের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় তিনটি প্যাকেজে মোট ১১টি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেতুগুলোর মোট দৈর্ঘ্য ৬৮০ দশমিক ৭৩ মিটার।

প্রথম প্যাকেজে পলাশবাড়ী-ঘোড়াঘাট সড়কের করতোয়াপাড়া সেতু চালু হলেও সাদুল্লাপুর-নলডাঙ্গা সড়কের জামুডাঙ্গা সেতুর মূল কাঠামো সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ হয়নি।

দ্বিতীয় প্যাকেজে নিউ ব্রিজ রোড ও গোবিন্দগঞ্জের শাকদহ সেতুর অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। মাঠেরহাট সেতুতে পাইলিংয়ের পর কাজ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বাজারপাড়া, হলহলিয়া ও কদমতলী সেতুর নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি।

তৃতীয় প্যাকেজে শহরের পুলবন্দি সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক হয়নি। সাঘাটার বাজিতনগর সেতুর কাজ সম্প্রতি শুরু হলেও কালিতলা সেতুর কাজ এখনো শুরু হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শাকদহ, পুলবন্দি ও নিউ ব্রিজ এলাকার সেতুগুলোর মূল কাঠামো তৈরি থাকলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় লোহার রডে মরিচা ধরেছে এবং সেতুর চারপাশ ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, নতুন সেতু ব্যবহার করতে না পেরে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো সেতু দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। রাতে নির্মাণাধীন সেতু থেকে রড চুরির ঘটনাও ঘটছে।

গাইবান্ধা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী পিয়াস কুমার সেন বলেন, ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে চারটি সেতুর কাজ শুরু করা যায়নি। ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া শেষ হলে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। একই সঙ্গে অসমাপ্ত সেতুগুলোর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত