বিকেএমইএর সভাপতিকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলায় এমপির ওপর চড়াও মালিক-শ্রমিকরা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
নারায়ণগঞ্জে একটি ইফতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিকেএমইএর সভাপতিকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন। ছবি: সংগৃহীত ছবি:
নারায়ণগঞ্জে একটি ইফতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিকেএমইএর সভাপতিকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন। ছবি: সংগৃহীত ছবি:

নারায়ণগঞ্জে একটি ইফতার অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতিকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দেয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্যের ওপর চড়াও হয়েছেন মালিক শ্রমিকরা। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ইফতার অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় এ বি এস নীট ফেব্রিক্স নামে একটি পোশাক কারখানায় এই ঘটনা করে।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ বি এস নীট ফেব্রিক্স কারখানায় জামায়াতে ইসলামী পেশাজীবী ফোরাম নারায়ণগঞ্জ পূর্ব থানার উদ্যোগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ইফতার পূর্ব আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পোশাক কারখানার মালিকরা।
 
আলোচনা সভার শেষ মুহূর্তে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি এসে অনুষ্ঠানস্থলে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে দেখে মঞ্চে বসতে আপত্তি জানান। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ফ্যাসিস্টের দোসরের সঙ্গে এক মঞ্চে বসবেন না বলে ঘোষণা দেন।
 
তার এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমসহ বিসিক শিল্প মালিকরা মঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সেখান থেকে চলে যান। এ সময় উপস্থিত লোকজন সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আলামিনের ওপর চড়াও হয়ে উঠলে ইফতার অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়।
 
সেখানে উপস্থিত বিভিন্ন পোশাক কারখানার মালিক শ্রমিকরা ভেতরে ও বাইরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ অবস্থায় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আলআমিন কারখানার ভেতরেই অবস্থান নেন। খবর পেয়ে এনসিপি ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে দুপক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এতে বিসিক জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
 
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার এক ঘণ্টা পর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আলামিনকে সেখান থেকে নিরাপদে শহরে নিয়ে আসে পুলিশ।
 
পরে শহরে এনসিপির কার্যালয়ে গিয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিকেএমইএর সভাপতিকে আমি ফ্যাসিস্ট বলেছি এবং যৌক্তিক মন্তব্য করেছি। কারণ বিকেএমইএর সভাপতি জুলাই অভ্যুত্থানকে ‘তাণ্ডব’ বলেছেন। তাই আমি বলেছি কোনো ফ্যাসিস্টের দোসরের সঙ্গে বসতে পারি না। তিনি জুলাই অভ্যুত্থানকে তাণ্ডব বলেছেন এর জন্য তাকে মাফ চাইতে হবে। তা না হলে সাধারণ ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্টদের আবারও প্রতিহত করতে রাজপথে নামবে।’
 
অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘রাসেল নামে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা লোকজন ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে এনসিপির কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। মারধর করে পাঁচজনকে আহত করেছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি প্রশাসনকে বলেছি আপনারা এর সমাধান করেন। কর্মীদেরও বলেছি কাউকে উচ্ছৃখল না হতে।’
 
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘অনুষ্ঠানে ইফতারের জামায়াতের নেতৃবৃন্দ এবং আমি বক্তব্য দিয়েছি। শেষ মুহূর্তে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন অনুষ্ঠানে আসেন এবং মঞ্চে বসতে বললে তিনি আপত্তি জানান। পরে বক্তব্য দিতে বলা হলে তিনি বক্তব্যে বলেন যেখানে ফ্যাসিবাদের দোসর আছে সেখানে আমি কি করে মঞ্চে বসি এবং বক্তব্য দেই। তার এ কথা শুনে বিসিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা উঠে দাঁড়ান এবং সেখান থেকে বের হয়ে নিচে চলে যান। আমি তাদের শান্ত থাকতে বলি এবং নিজেও বের হয়ে আসি। পরে শিল্প মালিকরা আয়োজকদের ডেকে এনে জানতে চান কেন আমাদের দাওয়াত করে এনে অপমান করা হলো। এ সময় সেখানে অনেক লোকজন জড়ো হয়। আমিও সেখান থেকে চলে আসি।’
 
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘পরে আমি পুলিশ সুপারকে ফোন করে বিষয়টি জানাই। বলেছি- আলা আমিন যেহেতু আমাদের সংসদ সদস্য, তার যেন কোনো অসম্মান না হয় এবং তাকে যেন সসম্মানে সেখান থেকে নিয়ে আসা হয়।’
 
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘বিসিকে ইফতারের অনুষ্ঠানে একটি বিষয় নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিকেএমইএ সভাপতির মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পরিস্থতি এখন শান্ত। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি।’

এলাকার খবর

সম্পর্কিত