রাকসুর গণ-ইফতার কর্মসূচি, অর্থের উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

পবিত্র রমজান উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) এর উদ্যোগে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য গণ-ইফতার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মাঠ ও শহিদ মিনার চত্বরে এ ইফতারের আয়োজন করা হয়।

তবে গণ-ইফতারে শতাধিক শিক্ষার্থী খাবার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অপর দিকে বিশাল এ আয়োজনের খরচের উৎস সম্পর্কে জানেন না রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এস. এম. সালমান সাব্বির।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য গণ-ইফতারের আয়োজন করা হয়। এতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য গরুর মাংস দিয়ে বিরিয়ানি ও খেজুর, আর ‘অমুসলিম’ শিক্ষার্থীদের জন্য মুরগির মাংস দিয়ে বিরিয়ানির ব্যবস্থা করা হয়। এর আগে শিক্ষার্থীরা হল সংসদ থেকে খাবারের টোকেন সংগ্রহ করেন। শিক্ষার্থীরা টোকেন নিয়ে খাবার সংগ্রহ করতে রাবি কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে হাজির হন। আসর নামাজের পর থেকেই শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হতে থাকেন। তবে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে শতাধিক শিক্ষার্থী খাবার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

খাবার না পাওয়া শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ গ্রুপসহ নিজেদের ফেসবুক আইডি থেকে অভিযোগ করে পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমি একজন অনাবাসিক শিক্ষার্থী। তড়িঘড়ি করে এসে টোকেন নিয়েছি। আজ সারা দিন রোজা থেকে সন্ধ্যায় ইফতার করতে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা বসে থাকার পর রাকসুর প্রতিনিধিরা জানাল খাবার শেষ। রাকসুর প্রতিনিধিদের জানা উচিত ইফতার ফুটেজ খাওয়ার জায়গা না। সারা দিন রোজা থেকে ইফতারে এমন অবস্থা অবর্ণনীয়। তার ওপর রাকসু নিয়ে কোনও সমালোচনা করা যায় না। কিছু বললেই বাম, রাম শাহবাগী ট্যাগ দেয়।’

আমীর আলী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাকিব মল্লিক বলেন, ‘রাকসুর আয়োজনে টোকেনের ব্যবস্থা করেছে। এতে তো কতজন লোক হবে তার একটা ধারণা পাওয়ার কথা। কিন্তু এমন অব্যবস্থাপনার ধিক্কার জানাই।’

এ বিষয়ে রাকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির বলেন, ‘আমাদের ১৫ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন ছিল, তবে সঠিক তথ্য এখনো জানা যায়নি। আমাদের ম্যানেজমেন্টে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। কারণ, আমাদের যারা দায়িত্বে ছিল তারা ওইভাবে টোকেন চেক করে ভেতরে প্রবেশ করাননি। অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা টোকেন ছাড়াই খাবার নিতে এসেছিল। যার ফলে মেয়েরা সকলে খাবার পেলেও ছেলে শিক্ষার্থীদের কয়েকজন খাবার না পেয়ে চলে গেছে।’

টাকার উৎস বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমরা ঠিক বলতে পারব না। আমাদের ভিপি সম্পূর্ণ এটার দায়িত্বে ছিল। তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করেছেন।’

জানতে চাইলে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘এই আয়োজনের ফান্ড কোথায় থেকে এসেছে, সেটা আমাদের ভিপি ব্যবস্থা করেছেন। এটা রাকসুর ফান্ড থেকে করা হচ্ছে না। ভিপি কথা দিয়েছিল, তিনি কথা রেখেছেন। এক জায়গা থেকে ভিপির মাধ্যমেই এই ফান্ড এসেছে।’

ফান্ডিংয়ের বিষয়ে রাকসু'র সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও রাকসুপ্রেমী ভাইয়েরাই এই আয়োজন বাস্তবায়নে সহায়তা করেছেন। সংগৃহীত অর্থের প্রায় পুরোটা ইফতারের ব্যয়েই খরচ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের আয়োজিত গণ-ইফতারে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের আগ্রহ লক্ষ্য করেছি। সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার লক্ষ্যে মুসলিম শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের মুগ্ধ করেছে এবং আশাবাদী করেছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন পর রাকসুর এমন উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং পুরো ক্যাম্পাসে সম্প্রীতির আবহ বিরাজ করে। এবং এই কর্মসূচিতে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন তবে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীর ইফতার না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত