কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিরচরে জাইকার অর্থায়নে নির্মাণকাজ শুরুর অভিযোগে জেলা প্রশাসকসহ চার ব্যক্তিকে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে সৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে—এমন অভিযোগে এই আইনি নোটিশ দেওয়া হয়।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)-এর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ই-মেইল ও ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে নোটিশটি পাঠিয়েছেন।
নোটিশপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান, প্রকল্প পরিচালক রাশিদুর রহমান, কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আদনান চৌধুরী এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি তাকাহাসকি জানকো।
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালুর ওপর বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ফলে সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে এইচআরপিবি হাইকোর্টে রিট আবেদন করে।
রিটের শুনানি শেষে আদালত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সৈকতের বালুর মধ্যে কোনো ধরনের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ না করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এইচআরপিবির দাবি, আদালতের ওই নির্দেশনার পরও বিভিন্ন সময়ে সৈকতের বালুর মধ্যে স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে এর আগে দুই দফায় এসব স্থাপনা অপসারণও করা হয়।
নতুন করে কক্সবাজার পৌরসভার উদ্যোগে এবং জাইকার অর্থায়নে সৈকতের বালিরচরে রাস্তা বা নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে—সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়। এসব সংবাদ প্রকাশের পরই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশনা এবং এর আগে আদালতের আদেশে সৈকতের বালুর মধ্যে নির্মিত স্থাপনা অপসারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জানা থাকার পরও নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়ে থাকলে তা আদালতের নির্দেশনার সরাসরি লঙ্ঘন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে উল্লেখ করে নোটিশে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিরচরে চলমান নির্মাণকাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ বন্ধ করা না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আদালতে আদালত অবমাননার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে।
এইচআরপিবির পক্ষে নোটিশটি পাঠানো সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালুর ওপর কোনো স্থায়ী নির্মাণকাজ করা হলে তা বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা। সৈকতের বালিয়াড়ি ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশবাদী সংগঠন ও বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ জানানো হয়ে আসছে। ফলে আদালতের পুরোনো নির্দেশনার পর নতুন করে নির্মাণকাজের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আবারও আইনি ও পরিবেশগত আলোচনায় এসেছে।