জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) লাল বলের আসর শুরু হচ্ছে আগামী ৩ অক্টোবর। তার আগে ক্রিকেটারদের ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রথম ধাপে চার বিভাগের ক্রিকেটারদের ফিটনেস টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম দিনেই ১০ জনের বেশি ক্রিকেটার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঢাকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ক্রিকেটাররা অংশ নেন। বুধবার চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগের ক্রিকেটারদের ফিটনেস পরীক্ষা নেওয়ার কথা রয়েছে। আট বিভাগ মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিনশ ক্রিকেটার এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন।
ফিটনেস পরীক্ষার প্রধান অংশ ১৬০০ মিটার দৌড়। এ বছর পেস বোলারদের জন্য সময়সীমা সাত মিনিট এবং অন্য ক্রিকেটারদের জন্য সাত মিনিট ২০ সেকেন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। ধাপে ধাপে এই মানদণ্ড আরও কঠোর করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম দিনে কয়েকজন ক্রিকেটার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৌড় শেষ করতে না পারায় ফেল করেছেন। তবে এ কারণে তাদের এনসিএল খেলার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে না। আবার পরীক্ষার সুযোগ থাকছে।
বিসিবির ট্রেনার ইফতেখার ইফতি বলেন, ‘কেউ যদি ফেল করে বা অসুস্থ থাকতে পারে, এ ক্ষেত্রে ১০ দিন পর আমরা আরেকটা টেস্ট নেব। যদি তারপরও তারা ব্যর্থ হয়, আরও ১০ দিন পর আমরা আরেকটা টেস্ট নেব।’ ফিটনেস পরীক্ষায় ফেল করা ক্রিকেটারদের নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ইফতেখার বলেন, ‘যারা ফেল করবে, তাদের আমরা খুব বেশি মনোযোগ দেব ফিটনেসে। তাদের দায়িত্ব আমরাই কিছুটা নেব। ফেল করলে শেষ পর্যন্ত কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই। তাকে পাস করানোর ব্যবস্থা করব। সে ক্ষেত্রে তার ফিটনেসের পরিমাণ বাড়বে, দক্ষতা বাড়বে। এক্ষেত্রে এনসিএলে খেলতে পারবে কি না, সেটা বোর্ডের সিদ্ধান্ত।’ ফিটনেস পরীক্ষার বর্তমান মানদণ্ড সম্পর্কে ইফতেখার বলেন, ‘এবার মানদণ্ড আমাদের ঠিক করা হয়েছে ৭.২০ একটা গ্রুপের জন্য। ফাস্ট বোলারদের জন্য ৭... পেসারদের জন্য করা হয়েছে ৭.২০। আস্তে আস্তে হয়তো আমরা কমিয়ে নিয়ে আসব।’
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছর থেকে ফিটনেসের মানদণ্ড আরও কঠোর করার পরিকল্পনা রয়েছে। পেসারদের জন্য ১৬০০ মিটার দৌড়ের সময় ছয় মিনিট ৪০ সেকেন্ড এবং অন্য ক্রিকেটারদের জন্য সাত মিনিট নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটাররা ফিটনেস পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে বেতন বন্ধের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে ফিটনেস পরীক্ষায় ফেল করা ক্রিকেটারদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ না রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিয়ম কার্যকর করার কথা ভাবা হচ্ছে।
চলতি বছর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। ৭০ হাজার টাকা থেকে ম্যাচ ফি বাড়িয়ে দেড় লাখ টাকা করা হয়েছে। ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধাও কিছু ক্ষেত্রে বাড়ানো হয়েছে। এর পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে পেশাদার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ফিটনেসকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ক্রিকেটারদের ফিটনেসের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইফতেখার। তাঁর মতে, অনেক সময় ক্রিকেটাররা সঠিক নির্দেশনা না পাওয়ার কারণে খাবারের ক্ষেত্রে ভুল করেন। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটাররা সব সময় সচেতন। কিন্তু সাধারণত কী হয়, ওরা ভুল দিকনির্দেশনা পেয়ে যায় মাঝে মাঝে। যেমন খেলতে খেলতে প্লেয়াররা ক্লান্ত হয়ে যায়, ফিটনেস খারাপ হয়। এর মধ্যে আছে আমাদের খাবারের অভ্যাস। ওরা যখন বাইরে খেলতে যায়, তখন খাবারের অভ্যাসটা পুরোপুরি মেনে চলে না।’
জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়ে সন্তুষ্টির কথাও জানিয়েছেন বিসিবির এই ট্রেনার। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ফিটনেসে উন্নতি দেখা যাচ্ছে। তবে খাবারের অভ্যাস, প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা এবং ট্রেনারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আরও কার্যকর হলে ফল আরও ভালো হবে। এনসিএলের জন্য ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ক্রিকেটারদের নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় একাদশের দল গঠন করা হবে। আগামী ৩ অক্টোবর থেকে শুরু হবে এবারের লাল বলের জাতীয় ক্রিকেট লিগ।