- ৪০-৩৬ পয়েন্টে স্বাগতিকদের জয়; শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে কঠিন সমীকরণে বাংলাদেশ
এশিয়ান গেমসে কাবাডিতে জাপানের বিপক্ষে জিতে পদক নিশ্চিত করার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু প্রত্যাশার ঠিক উল্টো ফল হয়েছে। রেইড ও ডিফেন্সে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে বাংলাদেশকে ৪০-৩৬ পয়েন্টে হারিয়েছে স্বাগতিক জাপান। ফলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগে কাবাডিতে বাংলাদেশের পদক নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
জাপানের কাছে এই হার বাংলাদেশের পদকের সমীকরণ কঠিন করে দিয়েছে। গ্রুপের শীর্ষ দল ভারত। বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ ভারতের বিপক্ষে। এদিকে জাপান বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পাওয়ায় গ্রুপের অন্য দলগুলোরও সমানসংখ্যক জয় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে গ্রুপের শেষ ম্যাচগুলোর ফল এবং পয়েন্টের ব্যবধানের হিসাবের ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশের পরবর্তী ভাগ্য। জাপানের বিপক্ষে জয় পেলে যেখানে পদক নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ ছিল, সেখানে চার পয়েন্টের হারে এখন শেষ ম্যাচের আগে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
নাগোয়া শহরের তোকাই দরি ইনডোর স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগেই ছিল জাপানি সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি। স্টেডিয়ামে ঢুকতেই শোনা যাচ্ছিল ‘নিপ্পন, নিপ্পন’ স্লোগান। কারও হাতে জাপানের পতাকা, কারও গায়ে স্বাগতিক দলের জার্সি। কোর্টের বাইরের সেই সমর্থন ম্যাচেও যেন জাপানকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।
কাবাডিতে শক্তির বিচারে জাপানের চেয়ে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। চাইনিজ তাইপে ও দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে গ্রুপে ভালো অবস্থানও তৈরি করেছিল দলটি। জাপানের বিপক্ষে জয় পেলেই পদক নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশকে চাপে রাখে জাপান।
প্রথম কয়েক মিনিটেই ২-৩ পয়েন্টের লিড নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। বাংলাদেশ শুরুতে স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেনি। অন্যদিকে জাপান ছিল আক্রমণাত্মক। রেইডের পাশাপাশি ডিফেন্সেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলে তারা।
একপর্যায়ে বাংলাদেশকে অলআউট করে গুরুত্বপূর্ণ লোনা আদায় করে জাপান। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২২-১৫ পয়েন্টে জাপানের এগিয়ে থাকার মধ্য দিয়ে।
বাংলাদেশের অধিনায়ক মিজানুর রহমান দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য রেইডার। কিন্তু এদিন একাধিকবার রেইডে গিয়ে জাপানের ডিফেন্সে আটকা পড়েন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও বাংলাদেশের দুর্ভোগ কাটেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আবার বাংলাদেশকে অলআউট করে জাপান। দ্বিতীয় লোনা পাওয়ার পর দ্রুতই ১১ পয়েন্টের লিড নেয় স্বাগতিক দল। ম্যাচ তখন বাংলাদেশের হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম।
তবে হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধের ১৩ মিনিটে জাপানকে অলআউট করে তিন পয়েন্টের লোনা আদায় করে নেয় তারা। এতে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৩৪-২৮। এরপর আরও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ব্যবধান নামিয়ে আনে এক পয়েন্টে—৩৫-৩৪। ম্যাচ তখন পুরোপুরি জমে ওঠে।
গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাংলাদেশ রিভিউ নেয়। কিন্তু এরপর জাপানের একটি সফল ট্যাকেলে দুই পয়েন্ট আসে। বাংলাদেশি রেইডার কোর্টের বাইরে চলে যাওয়ায় ব্যবধান আবার বাড়িয়ে নেয় জাপান। সেই মুহূর্তে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও আবার স্বাগতিকদের হাতে চলে যায়।
ম্যাচ শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগেই দুই দল তাদের রিভিউয়ের সুযোগ শেষ করে ফেলে। শেষ দুই মিনিট অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খেলেছে জাপান। বাংলাদেশের শেষ দিকের রেইড থেকেও প্রয়োজনীয় পয়েন্ট আসেনি।
শেষ পর্যন্ত ৪০-৩৬ পয়েন্টে জয় পায় জাপান। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে জাপানি সমর্থকেরা। কোর্টে উৎসবে মেতে ওঠেন স্বাগতিক খেলোয়াড়রাও। বিপরীতে হারের হতাশায় কোর্টেই বসে পড়েন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা।