বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে নানা ধর্মীয় ও উৎসবমুখর আয়োজন।
দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের প্রথম দিন আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধবিহার ও মন্দিরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, ফানুসবাতি উত্তোলন, শীলব্রত পালন, ধর্মীয় দেশনা, খাদ্য ও পানীয় দান এবং প্রদীপ পূজার আয়োজন করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) বুদ্ধ পূজা ও প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।
কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রীয় বৌদ্ধমন্দিরের মহাসিংদোগি মাঠে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ফানুসবাতি উত্তোলন, শীলব্রত পালন, ধর্মীয় দেশনা, খাদ্য ও পানীয় দান এবং প্রদীপ পূজায় অংশ নিচ্ছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী পুণ্যার্থীরা।
এদিকে কক্সবাজার শহরসহ জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধবিহার ও মন্দিরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্যাপন করা হচ্ছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন বিহারে পুণ্যার্থীদের উপস্থিতি, প্রার্থনা ও ধর্মীয় কার্যক্রমে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।
প্রবারণা পূর্ণিমার ধর্মীয় তাৎপর্য তুলে ধরে মা উন টিন রাখাইন, কক্সবাজার কেজি অ্যান্ড মডেল হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক বলেন, “প্রবারণা” শব্দের অর্থ প্রকৃষ্টরূপে বরণ করা, বারণ করা বা নিষেধ করা। বিশুদ্ধ বিনয়াচারে জীবন পরিচালনার আদর্শে ব্রতী হওয়া এবং আদর্শ ও ধর্মাচারের পরিপন্থী কর্মকাণ্ড পরিহার করাই প্রবারণার অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, এ পূর্ণিমা তিথিতে ভিক্ষুদের তিন মাসব্যাপী বর্ষাব্রত সমাপ্ত হয়। এ উপলক্ষে আত্মশুদ্ধি, আত্মবিশ্লেষণ এবং নিজের দোষ-ত্রুটি উপলব্ধি করে তা সংশোধনের শিক্ষা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। প্রবারণার অন্যতম তাৎপর্য হলো, ভিক্ষু সংঘের কাছে নিজের ত্রুটি প্রকাশ করে তা সংশোধন ও প্রায়শ্চিত্তের সুযোগ গ্রহণ করা।
বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুসারে, ভগবান গৌতম বুদ্ধ তাবতিংস স্বর্গে তিন মাসব্যাপী অভিধর্ম দেশনা শেষে প্রবারণা পূর্ণিমার তিথিতে সাংকাশ্য নগরীতে অবতরণ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এ ঘটনাও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে দিনটির বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে। মা উন টিন আরও বলেন, বুদ্ধের শিক্ষা ছিল বহুজনের হিত ও সুখের জন্য ধর্মের কল্যাণকর বাণী মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। প্রবারণা পূর্ণিমা সেই মানবকল্যাণ, আত্মশুদ্ধি, বিনয়, মাতৃকর্তব্য ও ধর্মাচার অনুশীলনের শিক্ষা স্মরণ করিয়ে দেয়।
প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে ফানুসবাতির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে উৎসবের পরিবেশ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে উৎসবে অংশ নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, সম্প্রীতি ও আনন্দঘন পরিবেশে কক্সবাজারের বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে পালিত হচ্ছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান এ ধর্মীয় উৎসব। প্রবারণার শিক্ষা মানুষের মধ্যে মৈত্রী, করুণা, সংযম ও সহমর্মিতার চর্চা বাড়াবে এমন প্রত্যাশা পুণ্যার্থীদের।