গ্যাসসংকট, চাপের ঘাটতি ও যান্ত্রিক ত্রুটি একটির পর একটি সংকট কাটিয়ে উৎপাদনে ফিরেও শেষ রক্ষা হলো না রাষ্ট্রায়ত্ত যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (জেএফসিএল)।
সর্বশেষ রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে তিতাস গ্যাস ও পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় আবারও ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। তবে আগামী ডিসেম্বর থেকে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালুর আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জেএফসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন জানান, তিতাস গ্যাস ও পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় উৎপাদন থেমে গেছে। তারা আগামী ডিসেম্বর মাসে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করার আশ্বাস দিয়েছেন।
এর আগে গ্যাসসংকটের কারণে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়নি। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি গ্যাসের চাপ কমে ৮ কেজিতে নেমে আসে। পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি চাপ আরও কমে ৫ দশমিক ২ কেজিতে পৌঁছালে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়। এরপর ৬ অক্টোবর রাত ৩টা ১০ মিনিটে কারখানাটিতে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়েছিল। কিন্তু উৎপাদন শুরুর মাত্র দুই দিনের মাথায়, ৮ অক্টোবর বয়লারে লিকেজ দেখা দেওয়ায় আবারও উৎপাদন বন্ধ করতে হয়। প্রায় ১৫ দিন মেরামতকাজ চলার পর গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু দুই দিন না যেতেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফের থেমে গেল উৎপাদন।
জেএফসিএলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) মো. ফজলুল হক জানিয়েছেন, কারখানাটিতে স্থিতিশীলভাবে ইউরিয়া উৎপাদন চালু রাখতে প্রতিদিন ৪২ থেকে ৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ নিশ্চিত না হলে উৎপাদন অব্যাহত রাখা কঠিন।
প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনক্ষম এই কারখানাটি জামালপুর, শেরপুর ও টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের ১৯টি জেলার কৃষকদের সার সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বারবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সার সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং কৃষকদের চাহিদা পূরণ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর উৎপাদন চালু, আবার যান্ত্রিক ত্রুটি, এরপর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ এভাবে একের পর এক ধাক্কায় কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ডিসেম্বর থেকে গ্যাস সরবরাহের আশ্বাস বাস্তবায়িত হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। শুধু আশ্বাস নয়, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে কারখানাটির উৎপাদন স্থিতিশীল করাই এখন সময়ের দাবি।
শু