সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যু ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন সামনে আসছে। ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের সঙ্গে ৭৫ বছর বয়সী গাজী নজরুলের বিয়ে, এরপর তাঁদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং শেষ পর্যন্ত রাজধানীর ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার—ঘটনাগুলোর প্রতিটি ধাপের সঙ্গে উঠে এসেছে তাঁর মামা মো. ওবায়দুর রহমানের নাম।
পরিবারের অভিযোগ, গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের পরিচয় ও সম্পর্ক তৈরিতে ওবায়দুরের ভূমিকা ছিল। বিয়ের পর তিনি তাঁদের ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে অর্থ দাবি করেন এবং পরে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন—এমন অভিযোগ করেছেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। তাঁর দাবি, ভিডিও ফাঁসের পর মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এমনকি মৃত্যুর আগে মরিয়ম তাঁর কাছে মামাকে নিয়ে আক্ষেপ করেছিলেন।
তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। ওবায়দুর রহমানও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি গাজী নজরুল ও মরিয়মের সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিলেন; ভিডিও ধারণ বা ফাঁস কিংবা ব্ল্যাকমেইলের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় তাঁকেই সন্দেহ করা হয়েছিল এবং সেই বিরোধে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে তিনি আগে থানায় মামলা করেছিলেন। ফলে মরিয়মের মৃত্যুর মামলায় ওবায়দুরের গ্রেপ্তার ও কারাগারে যাওয়া তদন্তের একটি নতুন অধ্যায় খুলেছে।
মামলার এজাহার ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। পরিবারের অভিযোগ, এই বিয়ের পেছনে ওবায়দুরের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। তিনি গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন এবং সেই সূত্রে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। মরিয়মের পরিবারের দাবি, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওবায়দুরই মরিয়মকে গাজী নজরুলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহের ভাষ্য, তাঁর মেয়ে স্বাভাবিকভাবে ওই সম্পর্কে জড়াননি; ওবায়দুরের মাধ্যমেই সম্পর্কটি তৈরি হয়। পরিবারের অন্য সদস্যরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। মরিয়মের ফুফু শামসুন্নাহার রোকসানার দাবি, মরিয়মকে গাজী নজরুলের কাছে নিয়ে যাওয়ার পেছনে ওবায়দুরের ভূমিকা ছিল। অর্থনৈতিক কোনো স্বার্থে তাঁকে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখার দাবি করেছেন তিনি।
তবে বিয়ের ক্ষেত্রে ওবায়দুরের ভূমিকা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য এক নয়। তাঁর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ওই সম্পর্কের পক্ষে ছিলেন না; বরং গাজী নজরুলকে সম্পর্ক থেকে সরে আসতে বলেছিলেন। তাই মরিয়মকে গাজী নজরুলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্তকারীদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—পরিচয় ও সম্পর্ক তৈরির সময় ওবায়দুরের প্রকৃত ভূমিকা কী ছিল এবং তাঁর সঙ্গে কারও অর্থনৈতিক লেনদেন হয়েছিল কি না।
মরিয়ম-গাজী নজরুলের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে মূলত একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর। জুলাইয়ে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে গাজী নজরুলকে মরিয়মের সঙ্গে দেখা যায়। প্রথম দিকে ভিডিওটি নিয়ে নানা দাবি ওঠে। পরে গাজী নজরুল নিজেই জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম।
এরপর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। দলটির পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। কিন্তু ভিডিওটি কে ধারণ করেছিল এবং কীভাবে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল—এই প্রশ্নটি এখন মরিয়মের মৃত্যুর তদন্তেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মরিয়মের বাবার অভিযোগ, ১৩ জুলাই তাঁর মেয়ের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন ওবায়দুর। এরপর ভিডিও ব্যবহার করে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় এবং যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ২০ জুলাই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর দাবি, এই ঘটনার পর থেকেই মরিয়ম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
তবে এই অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ভিডিওটির মূল উৎস, ধারণের ডিভাইস, ভিডিওটি প্রথম কোথা থেকে অনলাইনে ছড়ায়, অর্থ দাবির কোনো যোগাযোগ বা লেনদেন হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।
ওবায়দুরকে ঘিরে ঘটনাপ্রবাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো, ভিডিও ফাঁসের সময় তিনিই নিজে একটি মামলা করেছিলেন। পল্লবী থানায় করা ওই মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, গাজী নজরুল ও তাঁর ভাগ্নির ব্যক্তিগত ভিডিও নিয়ে একটি চক্র তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করছিল। একই সঙ্গে ওই ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে দেওয়ার সন্দেহও তাঁর ওপর করা হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
ওই মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, ১৪ জুলাই তাঁর ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনাও ঘটে। ওবায়দুরের অভিযোগ ছিল, ভিডিও ধারণ ও ফাঁসের সন্দেহ থেকেই তাঁকে লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়। মামলাটি এখনো বিচারাধীন এবং সেখানে উত্থাপিত অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
এই মামলার সঙ্গে মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র তৈরি হয়েছে। একদিকে মরিয়মের পরিবার বলছে, ভিডিও ধারণ ও ফাঁসের পেছনে ওবায়দুরের ভূমিকা ছিল। অন্যদিকে ওবায়দুরের নিজের মামলায় তিনি দাবি করেছেন, ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় তাঁকেই সন্দেহ করে হামলা করা হয়েছিল।
অর্থাৎ একই ভিডিওকে কেন্দ্র করে দুটি বিপরীত বয়ান তৈরি হয়েছে। কোনটি সত্য, তা নির্ধারণ করতে ভিডিওটির উৎস, সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস, কল রেকর্ড, মেসেজ, অর্থ লেনদেন এবং ভিডিওটি প্রথম কোথায় আপলোড হয়েছিল—এসব তথ্যের ফরেনসিক যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। মরিয়মের বাবা ওই রাতেই শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে মরিয়মের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামী ও তাঁর প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও আনা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। নোটে মরিয়মের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ভালোবাসা এবং ভাগাভাগি করা সম্পর্ক নিয়ে হতাশার ইঙ্গিত রয়েছে বলে আদালতসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে এসেছে। তবে ওই লেখাটি আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত প্রমাণ কি না, তা তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার বিষয়।
অন্যদিকে জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল বলেছেন, ঘটনার সময় তিনি ফ্ল্যাটেই ছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এলাকার কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে খাবার খাওয়ার পর মরিয়মের কক্ষের দরজা বন্ধ পান এবং পরে পুলিশকে খবর দেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রথম আলো জানিয়েছে, গাজী নজরুল বলেছেন, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর মরিয়ম বিষয়টি নিয়ে মানসিক অশান্তিতে ছিলেন।
এখানেই তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—ভিডিও ফাঁসের পর মরিয়মের মানসিক অবস্থার কী পরিবর্তন হয়েছিল এবং মৃত্যুর আগের কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনে তাঁর সঙ্গে কার কার যোগাযোগ হয়েছিল?
২৩ সেপ্টেম্বর ওবায়দুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করে ডিবি। তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আদালতকে জানান, মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় ওবায়দুরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাঁকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তবে আদালতে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দোষ প্রমাণের সমান নয়। এখন তদন্তকারীদের সামনে মূল কাজ হলো—ওবায়দুরের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগের কোন অংশের পক্ষে বস্তুগত প্রমাণ আছে এবং কোন অংশ কেবল প্রত্যক্ষদর্শী বা পরিবারের বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল, তা আলাদা করা।
বিশেষ করে ১০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগের সত্যতা, ভিডিও ধারণের সময় ও স্থান, ভিডিওর মূল ফাইল, ভিডিও ছড়ানোর প্রথম উৎস, ওবায়দুরের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং মরিয়মের মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
একই সঙ্গে ওবায়দুরের করা আগের মামলাটিও তদন্তকারীদের দেখতে হবে। কারণ সেখানে তিনি নিজেকে ভিডিও ফাঁসের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। সেই মামলায় কারা তাঁকে হামলা করেছিল, কেন করেছিল, ভিডিওটির উৎস সম্পর্কে তখন কী তথ্য পাওয়া গিয়েছিল এবং সেই মামলার তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়েছিল—এসব তথ্য নতুন মামলার ঘটনাপ্রবাহ বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
মরিয়মের মৃত্যুর মামলাটি ২২ সেপ্টেম্বর শেরেবাংলা নগর থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গাজী নজরুল চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ওবায়দুরকেও গ্রেপ্তার করা হলো। ফলে তিন আসামিকে ঘিরে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্য থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুলের বিয়ে হয়েছিল, তাঁদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, ভিডিওটি নিয়ে মরিয়ম মানসিকভাবে অশান্তিতে ছিলেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে গাজী নজরুলের বক্তব্য এসেছে এবং মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হয়েছে। কিন্তু ভিডিও ধারণ ও ফাঁসের সঙ্গে ওবায়দুরের সরাসরি সম্পৃক্ততা কিংবা সেই ঘটনাই মরিয়মের আত্মহত্যার কারণ—এ দুটির কোনোটিই এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
তদন্তের আসল চ্যালেঞ্জ তাই শুধু কে দায়ী, তা খুঁজে বের করা নয়; বরং ঘটনাগুলোর মধ্যে প্রকৃত যোগসূত্র নির্ধারণ করা। মরিয়মের বিয়ের পেছনে ওবায়দুরের ভূমিকা কী ছিল, ভিডিওটি কে ধারণ করেছিল, কার মাধ্যমে তা ছড়াল, অর্থ দাবি হয়েছিল কি না, ভিডিও ফাঁসের পর মরিয়মের ওপর কী ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল এবং মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে আসামিদের কার কী যোগাযোগ ছিল—এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই মামলার গতিপথ নির্ধারণ করবে।
মরিয়মের মৃত্যু এখন একটি ফৌজদারি মামলার তদন্তের বিষয়। তাই পরিবারের অভিযোগ, আসামিদের বক্তব্য, পুলিশের দাবি এবং ডিজিটাল ও ফরেনসিক প্রমাণ—সবকিছুর সমন্বিত যাচাই ছাড়া কোনো পক্ষকেই দায়ী বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ওবায়দুরের কারাগারে যাওয়া তদন্তের একটি ধাপ; তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ হবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায়।