লালমনিরহাট সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে এক সন্দেহভাজন চোরাকারবারি মাদকদ্রব্য ফেলে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা ২০ মিনিটে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর মোগলহাট বিওপির টহলদল সদর উপজেলার চর ফলিমারী এলাকায় এ অভিযান চালায়। বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে টহলদল সীমান্তবর্তী এলাকায় এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে আসতে দেখে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। পরে বিজিবি সদস্যরা তাকে ধাওয়া করলে ওই ব্যক্তি সঙ্গে থাকা মালামাল ফেলে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ৪ হাজার পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। বিজিবির হিসাবে জব্দকৃত ট্যাপেন্টাডলের সিজার মূল্য ৪ লাখ টাকা। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
১৫ বিজিবি জানিয়েছে, জব্দ করা মাদকদ্রব্যের সঙ্গে জড়িত চোরাচালান চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান, মাদকপাচার এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সাম্প্রতিক সময়েও লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম সীমান্তে ১৫ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পৃথক অভিযানে ভারতীয় গাঁজা, ইস্কাপ ও ফেয়ারডিল সিরাপ জব্দের তথ্য জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবির কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্তবর্তী স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে মাদক ও চোরাচালান ঠেকাতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।