শেখ হাসিনাকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে : রিজভী

আজাদ অনলাইন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯
 ছবি:

শেখ হাসিনাকে পুনর্বাসনের চেষ্টা এবং হারানো ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশে দেশকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, পরাজিত শক্তি বেআইনি ও সন্ত্রাসী পন্থায় দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। বাসে আগুন দেওয়া, বিস্ফোরণ ঘটানো এবং বোমা হামলার পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে’ মিছিলপূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে। এখন হারানো ক্ষমতা ও রাজত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য তারা বেআইনি ও সন্ত্রাসী পন্থা অবলম্বন করতে চাইছে।

তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছোট শিশু, গাড়িচালক, বাসের কর্মী, দিনমজুর ও রিকশাচালকদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে বাসে আগুন দেওয়া হচ্ছে। বাসে বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে।

‘এর মধ্যে সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনা হলো, সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের নয়-এমন একটি টেলিফোন নম্বর থেকে বাংলাদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ফোন করে বোমার ডিভাইসের ছবি পাঠাতে বলা হচ্ছে। ছবি পাঠানোর পর তাদের টাকা দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।’

রিজভী বলেন, ‘তাহলে এটা একটা বড় ধরনের পরিকল্পনা, অশুভ চক্রান্ত। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে আবার বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র-এই তিনটিকে বিনষ্ট করতে চায়। এই চক্রান্ত অত্যন্ত গভীর।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ যে দেশকে আশ্রয় দিয়েছে, সেই দেশ থেকে যদি কেউ টেলিফোনে বাংলাদেশের সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে বোমা হামলা বা বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করায় এবং তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করে, তাহলে দেশ কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে, তা ভাবতে হবে।’

রিজভীর অভিযোগ, গত ১৫ বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় ছিল এবং দেশ গণতন্ত্রের দিকে এগোয়নি। তারা অন্য দেশের নির্দেশনা অনুযায়ী চলেছে। এখন পার্শ্ববর্তী দেশের সুযোগ নিয়ে আবার বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে পুনর্বাসন করে পরবর্তী সময়ে আবার সেই ‘ফ্যাসিবাদের দেহে’ আগের রাজত্ব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এটি এত সহজ নয়। দলমত নির্বিশেষে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে এবং সেই রাজত্ব আর ফিরে আসতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘যে অত্যাচার, নিপীড়ন ও শাসনব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশে রক্তের স্রোত বয়ে গেছে, সেই রাজত্ব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।’ হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের আত্মা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই ক্ষমতা আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।
 
তিনি বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনাকে চাই, শেখ হাসিনাকে পার্শ্ববর্তী দেশ ফিরিয়ে দিতে চায় না।’ তার দাবি, শেখ হাসিনা লাখ লাখ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছেন।

রিজভী বলেন, ‘কিশোরদের হত্যার জন্য সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ যার বিরুদ্ধে রয়েছে, তার চেয়ে বড় বর্বরতা আর কী হতে পারে?’

শেখ হাসিনার বিচার হবে এবং আদালতের দেওয়া রায় অনুযায়ী তাকে সাজা ভোগ করতে হবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, যেকোনো দিন তিনি বিচারের মুখোমুখি হয়ে দেশে ফিরবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে কোনো লাভ হবে না। কারণ এটি কোনো ফ্যাসিবাদী সরকার নয়, এটি নির্বাচিত সরকার। এটি শেখ হাসিনার মতো ‘আমি আর আমার’ নির্বাচনের সরকার নয়, কিংবা ‘মিডনাইট নির্বাচনের’ সরকারও নয়। এটি জনগণের আস্থা ও গণঅভ্যুত্থানের সরকার।

তিনি বলেন, এ কারণেই চক্রান্ত, বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন এবং বাড়িঘরে আগুন দিয়ে কুৎসিত পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গণতন্ত্রের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করছে, বিভিন্ন কথা বলছে এবং অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি। কারণ গণতন্ত্রে সরকারের সমালোচনা ও বিরোধী মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে।

১

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিইসির পদত্যাগ দাবি, অন্যথায় ভারতজুড়ে আন্দোলনের হুমকি ‘ককরোচদের’

২

আন্তর্জাতিক এমিতে মনোনয়ন পেল ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’

৩

বাড়ল বাণিজ্য চুক্তির মেয়াদ, এআই ইস্যুতে মতপার্থক্য

৪

২৪-এর পরাজিত শক্তিকে আশকারা দেবেন না : রিজভী

৫

খাল খননে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে শিগগির অ্যাকশন নেওয়া হবে: হুম্মাম

৬

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত: ডিএমপি

৭

লালমনিরহাটে ৪ হাজার ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল জব্দ, পালিয়ে গেল চোরাকারবারি

৮

সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য

৯

জামিনের পরও মুক্তি নয়, জেলগেটে নতুন মামলা—আইনের ফাঁক নাকি অপব্যবহার

১০

পাকিস্তানে ‘স্বৈরাচারী’ শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান ইমরান খানের ছেলের

১১

শহীদ মিনারে আখতার হুসেনকে শেষ বিদায়

১২

জাতিসংঘে ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে নজিরবিহীন বয়কটের মুখেও নেতানিয়াহুর হুঙ্কার

১৩

শির ওয়াশিংটন সফরে জাঁকজমকের ভিড়ে অগ্রগতি ‘সামান্য’

১৪

‘অন্তত ৭০-৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে আমাকে’: তানভীর

১৫

সুন্দরগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় আ.লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

১৫

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

সম্পর্কিত