খালি হয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার, নতুন যে পরিকল্পনা নিচ্ছেন ট্রাম্প

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

ইরানে সামরিক হামলাসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযানে ব্যবহৃত অস্ত্রভান্ডার পুনরায় পূরণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৬ মার্চ) শীর্ষ প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের নির্বাহীদের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, পেন্টাগন ইরান ও অন্যান্য সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনরায় গড়ে তুলতে কাজ করছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান লকহেড মার্টিন এবং আরটিএক্স করপোরেশনের মতো কোম্পানি এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বৈঠকের পরিকল্পনা এখনও ব্যক্তিগত পর্যায়ে থাকায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য দিয়েছে।

এর আগে চলতি সপ্তাহে এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, পেন্টাগনের আলোচকরা বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারছেন না, যদিও তারা দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে চাইছেন। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে লকহেড মার্টিন কোনো জবাব দেয়নি এবং আরটিএক্স বৈঠক নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর ওপর ক্রমশ চাপ বাড়াচ্ছে যাতে তারা শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফা বিতরণের চেয়ে অস্ত্র উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেয়। এ লক্ষ্যেই জানুয়ারিতে তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যাতে এমন ঠিকাদারদের শনাক্ত করার কথা বলা হয় যারা চুক্তি বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকলেও শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফা দিচ্ছে।

২০২২ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র তার অস্ত্রভান্ডার থেকে বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্টিলারি সিস্টেম, গোলাবারুদ এবং অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র।

শুক্রবারের বৈঠকের আগে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বুধবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের উপপ্রতিরক্ষা সচিব স্টিভ ফেইনবার্গ নির্বাচিত কয়েকটি প্রতিরক্ষা কোম্পানির সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি। তবে এ বিষয়ে পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করেনি।

আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে নতুন উৎপাদন চুক্তি। সরকারি দুটি সূত্র এবং শিল্পখাতের একজন নির্বাহী জানান, এর মধ্যে লকহেড মার্টিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি পেন্টাগনের সঙ্গে সাত বছরের একটি চুক্তি করে, যার আওতায় তাদের পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক উৎপাদন সক্ষমতা বছরে প্রায় ৬০০ ইউনিট থেকে বাড়িয়ে দুই হাজর ইউনিটে উন্নীত করা হবে।

এছাড়া কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা তাদের টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থার উৎপাদনও বছরে ৯৬ ইউনিট থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৪০০ ইউনিটে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে পিএসি-৩সহ বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

হোয়াইট হাউসের এই বৈঠক প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি অতিরিক্ত বাজেট প্রস্তাব ঘোষণার সময়ের কাছাকাছি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্সের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এই অর্থ মধ্যপ্রাচ্যসহ সাম্প্রতিক সংঘাতে ব্যবহৃত অস্ত্র প্রতিস্থাপনে ব্যয় করা হবে। তবে অভিযানের মেয়াদ অনুযায়ী এই অর্থের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

বিষয়:

#ইরান
এলাকার খবর

সম্পর্কিত