রূপকথার গল্পে সোনার রাস্তার কথা শোনা যায়। এবার সেই কল্পনাকে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে যেতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। শহরটির গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে তৈরি হচ্ছে ২৪ ক্যারেট সোনার ওয়াকওয়ে বা হাঁটার পথ। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। চালু হলে এটি পর্যটকদের জন্য দুবাইয়ের নতুন আকর্ষণে পরিণত হতে পারে।
সম্প্রতি দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের বাণিজ্যিক বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক রশিদ আল হারমুদি এ প্রকল্পের কথা জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি এই পথটি হবে বিশ্বে প্রথম ধরনের এবং দীর্ঘতম সোনার ওয়াকওয়ে। তবে পথটির দৈর্ঘ্য, নির্মাণে কতটুকু সোনা ব্যবহার করা হবে, সোনার ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করা হবে কিংবা প্রকল্পের ব্যয় কত—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
দুবাইয়ের পুরোনো শহর দেইরায় অবস্থিত গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট মূলত স্বর্ণ ও গয়নার বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা একটি বিশেষ বাণিজ্যিক এলাকা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া এই এলাকায় স্বর্ণ, গয়না, বুলিয়ন, পাইকারি বাণিজ্য ও বিনিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম এক জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে এক হাজারের বেশি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র।
নতুন সোনার পথটি এই বাণিজ্যিক এলাকার একটি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে স্বর্ণের বাজারে দুবাইয়ের ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শহরটি দীর্ঘদিন ধরেই স্বর্ণের গয়না কেনাকাটা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত। নতুন ওয়াকওয়ে চালু হলে সেই পরিচিতিতে যুক্ত হবে ব্যতিক্রমী একটি পর্যটন অভিজ্ঞতা।
দুবাইয়ের স্বর্ণবাণিজ্যের গুরুত্বও উল্লেখযোগ্য। দুবাই মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ৫৩ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ রপ্তানি করেছে। দেশটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভৌত স্বর্ণবাণিজ্যকেন্দ্র। সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত, হংকং ও তুরস্ক এর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার।
সোনার ওয়াকওয়ে নির্মাণের ঘোষণা প্রথম আসে গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের উদ্বোধনের সময়, জানুয়ারিতে। তখন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, এটি স্বর্ণ ব্যবহার করে নির্মিত একটি বিশেষ সড়ক হবে এবং প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে। পরে মে মাসে নির্মাণকাজ এগিয়ে চলার কথা জানিয়ে বছরের শেষ প্রান্তিকে চালুর সম্ভাবনার কথা বলা হয়। অক্টোবরের সর্বশেষ ঘোষণায়ও বছরের শেষ নাগাদ এটি খুলে দেওয়ার লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
তবে ‘সোনার রাস্তা’ বলতে পুরো পথটি খাঁটি সোনার তৈরি হবে, নাকি এর পৃষ্ঠে বা কাঠামোর নির্দিষ্ট অংশে সোনা ব্যবহার করা হবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। নির্মাণপদ্ধতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং দর্শনার্থীদের প্রবেশসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে পর্যটনপ্রেমীরা।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে বছরের শেষ নাগাদ দুবাইয়ে এই ব্যতিক্রমী পথ দেখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সোনার বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শহরটির জন্য এটি যেমন নতুন পর্যটন আকর্ষণ, তেমনি ঐতিহ্য ও আধুনিক বিপণনকে একত্র করার আরেকটি উদ্যোগ।