মাদক, জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আয়োজিত এক জনসচেতনতামূলক সভার বক্তারা। তাঁরা বলেছেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান দিয়ে এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কিশোর-তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সচেতনতা, নৈতিক শিক্ষা এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
গত ৩১ অক্টোবর শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের একতা বাজারে আল খিদমাহ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, আলেম, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম রেজা। বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইব্রাহীম খলিলুল্লাহর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন আল খিদমাহ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম। ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক সুদীপ্ত শামীম সভা সঞ্চালনা করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বেলকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির এ কে এম নাজমুল হুদা, সুন্দরগঞ্জ সদর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার মাওলানা মো. গোলাম মোস্তফা, জিগাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম এবং ব্রাইট ড্রিম মডেল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মাওলানা মো. সোলাইমান মিয়া।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ, ব্যবসায়ী মো. আমিনুল ইসলাম, ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও সুন্দরগঞ্জ সদর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা মো. আব্দুল আজিজ এবং ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মাওলানা মো. আবু ইউসুফ।
বক্তারা বলেন, মাদক ও জুয়া ব্যক্তি ও পরিবারকে বিপর্যস্ত করার পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি। অন্যদিকে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে কিশোর-তরুণদের একটি অংশ অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
তাঁরা বলেন, মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তরুণ ও যুবসমাজকে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক সামাজিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত করতে হবে। সন্তানদের চলাফেরা ও বন্ধুমহলের বিষয়ে অভিভাবকদের খোঁজখবর রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তাঁরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।
সভায় মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়। কোথাও মাদক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান বক্তারা। তাঁদের মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন।
সভা থেকে মাদক, জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা জোরদার এবং নতুন প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।