ইসরাইলের প্রধান বিরোধী দলগুলোর নেতারা দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন। যত দ্রুত সম্ভব বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তেলআবিবের উত্তরে হার্জলিয়া শহরে বৈঠকে বসেন ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের নেতারা। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর এটিই ছিল তাদের প্রথম যৌথ বৈঠক। ওই নির্বাচনে ১২০ আসনের ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে কোনো জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।
এদিকে, নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। বুধবার থেকে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ শুরু করবেন। এর ঠিক এক দিন আগে বিরোধী নেতাদের এ সমঝোতা নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে বিরোধী জোটের মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে জোট করা হবে কি না, তা নিয়ে নেতারা একমত হতে পারেননি। অথচ নতুন সরকার গঠনে এসব দলের সমর্থনই শেষ পর্যন্ত নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।
যৌথ বিবৃতিতে বিরোধী নেতারা জানিয়েছেন, তাদের সব দল প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়নের সুপারিশ করবে। পাশাপাশি সরকারের নীতিমালা ও জোট চুক্তির খসড়া তৈরির জন্য আলোচনা দলগুলো অবিলম্বে কাজ শুরু করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন বর্তমান জোট সরকারকে সরিয়ে ‘জাতীয় জরুরি সরকার’ গঠনের লক্ষ্যে দলগুলোর নেতারা সমন্বিতভাবে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে অংশ নেন গাদি আইজেনকট, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, ইসরাইল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান, ডেমোক্র্যাটস পার্টির ইয়ার গোলান এবং ইয়েশ আতিদ পার্টির প্রধান ইয়ার লাপিদ।
বৈঠকে আইজেনকটের উত্থাপিত চারটি মূলনীতির প্রতিও সমর্থন জানান বিরোধী নেতারা। এসব নীতির মধ্যে রয়েছে—সরকারের অংশীদার সব দলকে ইসরাইলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং হামাসকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে অভিহিত করতে হবে।
তবে এসব শর্তের কারণে আরব নেতৃত্বাধীন কয়েকটি দল বিরোধী জোটের সঙ্গে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে না-ও পারে।
এদিকে, নির্বাচনে তৃতীয় স্থান অর্জন করা বেনেট সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের হাতে সময় নেই। অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা