যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফল মেনে নেয়ার কথা বলেছেন। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের দেশের নির্বাচনের ফল মেনে নিতে নারাজ। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পরও তিনি ও তার দল লিকুদ পার্টি ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।
গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের এক সপ্তাহ পরও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত ফল চ্যালেঞ্জ করে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু। তার দল অভিযোগ করছে, আরব রাজনৈতিক দল ও বিদেশি শক্তি ভোট কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচনের ফল পাল্টে দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর বিরোধ আরও বেড়েছে আরব দলগুলোর নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্তের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের (Shin Bet) প্রধান ডেভিড জিনি আরব দলগুলোর নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেন। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া তদন্তের অনুমতি দিতে রাজি হননি দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারাভ-মিয়ারা।
নির্বাচনের সরকারি ফল অনুযায়ী, নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি। আগের নির্বাচনে তাদের আসন ছিল ৬৮টি। অন্যদিকে, বিরোধী জোট পেয়েছে ৬৭টি আসন। এর মধ্যে আরবদের দুটি দল—জয়েন্ট লিস্ট ও রা'আম—মিলিয়ে পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ক্ষেত্রে দল দুটির সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের পর লিকুদ পার্টি শত শত অভিযোগ ও সাক্ষ্যপ্রমাণ জমা দিয়ে তদন্ত এবং গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। তবে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি ব্যাপক কারচুপির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিটির বক্তব্য, ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়েছে—এমন কোনো পদ্ধতিগত অনিয়মের প্রমাণ নেই।
তবে নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে শিন বেতকে অনুরোধ করা হয়েছিল। সংস্থাটি বিদেশ থেকে বিপুল অর্থ আসার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকার কথা জানালেও এর ব্যাপকতা নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছে। এ বিষয়ে জনসমক্ষে কোনো প্রমাণও হাজির করেনি তারা।
অন্যদিকে, আরব দলগুলো অভিযোগ করেছে, তাদের ভোটার ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু। বিরোধী নেতারা বলছেন, নির্বাচনের ফল নিয়ে এভাবে প্রশ্ন তুলে নেতানিয়াহু ও তার মিত্ররা ইসরায়েলকে সাংবিধানিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট করছেন।
নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট অভিযোগ করেছেন, লিকুদ পার্টি গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদও এ ঘটনাকে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন।
নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে বিরোধী দলগুলো আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে পারে কি না, তার ওপর। আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনকে অবৈধ হিসেবে তুলে ধরতে পারলে বিরোধীদের সরকার গঠনের পথ আটকে দিতে পারেন নেতানিয়াহু। তবে এতে বিভক্ত বিরোধী দলগুলো আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করছে সিএনএন।