একই ঘটনায় পাঁচজন নিহতের পর তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন চ্যাড হিকম্যানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ; নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে পৃথক দুটি বাড়ি এবং একটি বনাঞ্চল ঘিরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। পরে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকেও মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। ফলে এ ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়জনে।
শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে মিসাউকি কাউন্টির একটি বাড়িতে গুলিবর্ষণের খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। ঘটনাস্থলে তিনজনকে মৃত এবং একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পুলিশ পৌঁছানোর আগেই সন্দেহভাজন বন্দুকধারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে তাকে **৩৯ বছর বয়সী চ্যাড হিকম্যান** হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
হিকম্যানের সন্ধানে ব্যাপক অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একপর্যায়ে কাছাকাছি আরেকটি বাড়িতে গুলিবিদ্ধ আরও একজনের মরদেহ পাওয়া যায়।
পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্ক করে জানায়, হিকম্যান সশস্ত্র এবং বিপজ্জনক হতে পারে। তাই তাকে দেখলে সাধারণ মানুষকে কাছে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে হোয়াইটলক হ্রদের কাছে একটি বন এলাকায় সন্দেহভাজনের গাড়ি খুঁজে পায় পুলিশ। গাড়িটি উদ্ধারের পর সেখানেই হিকম্যানের মরদেহ পাওয়া যায়। একই এলাকায় আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফলে শুরুতে ঘটনাস্থলে পাওয়া তিনজন, পরে দ্বিতীয় বাড়ি থেকে পাওয়া একজন এবং বনাঞ্চল থেকে উদ্ধার হওয়া দুইজন—সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ছয়জনে।
তবে এই গুলিবর্ষণের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে কারা ছিলেন, তাদের বয়স কত কিংবা তাদের মধ্যে পারিবারিক বা অন্য কোনো সম্পর্ক ছিল কি না—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।
স্বজনদের অবহিত করার পর নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এখন পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মিসাউকি কাউন্টির ঘটনাটি ডেট্রয়েট শহর থেকে প্রায় ১৬৯ মাইল উত্তর-পশ্চিমে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি গুলিবর্ষণের পুরো ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিশেষ করে **কেন হামলা চালানো হয়েছিল, নিহতদের সঙ্গে সন্দেহভাজনের সম্পর্ক কী এবং একাধিক স্থানে কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে**—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা।
সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো আইনি প্রক্রিয়া চালানোর সুযোগ না থাকলেও, তার সঙ্গে এই ছয়জনের মৃত্যুর সম্পর্ক এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।
নিহতদের পরিচয়, হামলার উদ্দেশ্য এবং ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ কারণ এখনো অজানা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় পুলিশের দেওয়া তথ্যই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে থাকছে।