২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ শুধু অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যাতেই নয়, প্রাইজমানির দিক থেকেও গড়েছে নতুন ইতিহাস। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ উপলক্ষে রেকর্ড ৬৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার প্রাইজ ফান্ড ঘোষণা করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ফলে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলই আগের যেকোনো বিশ্বকাপের তুলনায় বেশি অর্থ পাচ্ছে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও জমকালো আসর হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। মাঠের উত্তেজনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক থেকেও সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
চ্যাম্পিয়ন থেকে গ্রুপ পর্ব—কার ভাগ্যে কত?
ফিফার ঘোষিত কাঠামো অনুযায়ী, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের প্রত্যেকেই ন্যূনতম ১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার পাচ্ছে।
পর্যায়ভিত্তিক প্রাইজমানি হলো—
চ্যাম্পিয়ন: ৫ কোটি ডলার
রানার্সআপ: ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার
তৃতীয় স্থান: ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার
চতুর্থ স্থান: ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার
কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়: ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার
শেষ ষোলো থেকে বিদায়: ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার
শেষ ৩২ থেকে বিদায়: ১ কোটি ১০ লাখ ডলার
গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়: ৯০ লাখ ডলার, সঙ্গে প্রস্তুতি বাবদ অতিরিক্ত ১৫ লাখ ডলার
অর্থ কার হাতে যায়?
বিশ্বকাপের প্রাইজমানি সরাসরি খেলোয়াড়দের হাতে যায় না। এই অর্থ সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশন বা অ্যাসোসিয়েশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ফেডারেশন সিদ্ধান্ত নেয়, কত টাকা খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে দেওয়া হবে এবং কত অর্থ দেশের ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
উদাহরণ হিসেবে, শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্ত অর্থের ৮০ শতাংশ নারী ও পুরুষ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ড জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা জাতীয় দলের ম্যাচ ফি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করে থাকেন।
ফিফার আয়ও বেড়েছে
২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের আর্থিক চক্রে ফিফার সম্ভাব্য মোট আয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। এর প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রাইজমানি হিসেবে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।
এর আগের চার বছরের আর্থিক চক্রে ফিফার মোট আয় ছিল প্রায় ৭৬০ কোটি ডলার।
আগের বিশ্বকাপের তুলনায় কতটা বৃদ্ধি?
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল পাচ্ছে ৫ কোটি ডলার, অর্থাৎ ৮০ লাখ ডলার বেশি।
একইভাবে—
রানার্সআপ দল পাচ্ছে আগের তুলনায় ৩০ লাখ ডলার বেশি।
তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল পাচ্ছে ২০ লাখ ডলার বেশি।
ফিফা প্রথম বিশ্বকাপের প্রাইজমানির তথ্য প্রকাশ করেছিল ১৯৮২ সালে। সে বছর ইতালি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে পেয়েছিল মাত্র ২২ লাখ ডলার। ৪৪ বছর পর সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ডলারে, যা প্রায় ২০ গুণ বেশি।
ট্রফির সঙ্গে আর কী পায় বিজয়ীরা?
বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সদস্যরা পান স্বর্ণপদক। রানার্সআপ দল পায় রৌপ্যপদক, আর তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলকে দেওয়া হয় ব্রোঞ্জপদক।
এছাড়া ফাইনাল পরিচালনাকারী ম্যাচ কর্মকর্তারাও বিশেষ সম্মানসূচক পদক লাভ করেন।
ব্যক্তিগত পুরস্কার
বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়—
গোল্ডেন বল (সেরা খেলোয়াড়)
গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা)
গোল্ডেন গ্লাভস (সেরা গোলরক্ষক)
এসব পুরস্কারের সঙ্গে কোনো অর্থমূল্য না থাকলেও বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়ার মর্যাদাই এগুলোর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
এবারের বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সমান ৮ গোল নিয়ে লড়াই করছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে। ফাইনালের পরই নির্ধারিত হবে ব্যক্তিগত এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের বিজয়ী।