উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা হারানোর হতাশা এখনো পুরোপুরি কাটেনি বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের। তবে সেই হতাশাকে পেছনে ফেলে সামনে তাকাতে হচ্ছে ঋতুপর্ণা-মারিয়াদের। কারণ অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা—এশিয়ান গেমস। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী তিন দল উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মিয়ানমার। কঠিন গ্রুপে পড়লেও আত্মবিশ্বাস হারাতে চান না বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্দা। বরং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করার প্রত্যয় তাঁর। সোমবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ভবনে সংবাদ সম্মেলনে মারিয়া বলেছেন, প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক, নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখে খেলতে চান তাঁরা। এশিয়ান গেমসের এবারের আসর বসছে জাপানের আইচি-নাগোয়ায়। মূল আসর শুরু হবে ১৯ সেপ্টেম্বর, শেষ হবে ৪ অক্টোবর। তবে নারী ফুটবলের প্রতিযোগিতা শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর। নারী ফুটবলে বাংলাদেশের অবস্থান ‘বি’ গ্রুপে। এই গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে আছে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মিয়ানমার।
গ্রুপটির শক্তিমত্তা দেখলেই বাংলাদেশের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জটা বোঝা যায়। এশিয়ান গেমসে নারী ফুটবলে উত্তর কোরিয়া তিনবারের চ্যাম্পিয়ন। দক্ষিণ কোরিয়া এখন পর্যন্ত তিনবার ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে। বিপরীতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের এই প্রতিযোগিতায় কোনো পদক নেই। ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও বাংলাদেশের তুলনায় গ্রুপের অন্য দলগুলো এগিয়ে। সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ে মিয়ানমার ৫৫তম স্থানে, সেখানে বাংলাদেশ ১০৭তম। দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়াও এশিয়ার শীর্ষ সারির দলগুলোর মধ্যে রয়েছে। ফলে কাগজে-কলমে বাংলাদেশের জন্য গ্রুপটি বেশ কঠিনই।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাফল্য আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে। গত বছর জুলাইয়ে মিয়ানমারকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো উইমেন’স এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে জয়টি ছিল বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে অবশ্য সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। গত মার্চে উইমেন’স এশিয়ান কাপে উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হয়ে ৫-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। শক্তি ও অভিজ্ঞতার পার্থক্য সেই ম্যাচে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।
এশিয়ান গেমসের আগে তাই নিজেদের প্রস্তুতিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ কোচ পিটার জেমস বাটলার। সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে বড় কোনো লক্ষ্য বা পদকের স্বপ্নের কথা না বলে দলের প্রস্তুতি আরও ভালো করার দিকেই জোর দিয়েছেন তিনি। এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি নিতে সোমবারই চীনের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বাংলাদেশ দল। সেখানে প্রায় ১০ দিনের ক্যাম্প করবে মেয়েরা। ক্যাম্পের অংশ হিসেবে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলার কথা রয়েছে। শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং এশিয়ান গেমসের জন্য দলকে আরও প্রস্তুত করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।
কোচের পাশে বসে মারিয়া মান্দাও জানিয়েছেন, চীনের প্রস্তুতি দলকে এশিয়ান গেমসে ভালো করতে সহায়তা করবে। তাঁর মতে, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। মারিয়া বলেন, ‘এশিয়ান গেমস উপলক্ষে আজ আমরা চায়না যাচ্ছি (ক্যাম্প করতে)। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, আমরা যেন সুন্দরভাবে পারফরম করতে পারি। আমরা এশিয়ান গেমসে যে গ্রুপে পড়েছি, সব দল খুব ভালো। তো আমরা যেন ভালোভাবে তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি এবং আমাদের সর্বোচ্চটা দিতে পারি, সেই উদ্দেশ্য থাকবে আমাদের।’
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের নারী দলের উন্নতির পেছনে অভিজ্ঞতার বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন অধিনায়ক। বিশেষ করে উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা এশিয়ান গেমসে কাজে লাগবে বলে মনে করছেন তিনি। মারিয়ার ভাষায়, ‘আমাদের দলটিও অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সেই অনুযায়ী আমাদের প্রস্তুতিও খুব ভালো হচ্ছে। সাফে খেলে আমরা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তা আমাদের অনেক সাহায্য করবে। কারণ সেখানে আমরা বেশ কিছু ভালো দলের মুখোমুখি হয়েছি।’
এশিয়ান গেমসের আগে চীনে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচকে তাই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন মারিয়া। ‘এখন অনুশীলনের উদ্দেশ্যে আমরা চীনে যাচ্ছি, যেখানে দুটি ম্যাচ খেলা হবে। শক্ত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলা আমাদের জন্য ইতিবাচক হবে। আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব,’ বলেন তিনি। প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে নিজেদের খেলায় মনোযোগী থাকার কথাও জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাঁর বিশ্বাস, মাঠে নিজেদের সামর্থ্যের পুরোটা দিতে পারলে ফলাফল নিজেদের পক্ষে আনার সুযোগ তৈরি হবে। মারিয়া বলেন, ‘ম্যাচের ফলাফল সব সময় খেলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তাই প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হোক বা সাধারণ, নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাস বজায় রেখে আমরা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’
বাংলাদেশের জন্য এশিয়ান গেমসের এবারের আসর শুধু আরেকটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নয়; বরং এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান যাচাইয়ের বড় সুযোগও। প্রথমবারের মতো উইমেন’স এশিয়ান কাপে খেলার অভিজ্ঞতার পর এবার এশিয়ান গেমসে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মিয়ানমারের মতো দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ।
ফলে ফলাফলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা দেখানোই হতে পারে মারিয়া-ঋতুপর্ণাদের বড় পরীক্ষা। কঠিন গ্রুপের বাস্তবতা জেনেও অধিনায়কের বার্তা পরিষ্কার—প্রতিপক্ষের নাম নয়, মাঠে নিজেদের সামর্থ্যই হবে বাংলাদেশের মূল শক্তি।
কোচের মতোই বাস্তবতা বুঝে আত্মবিশ্বাসের কথা বলেছেন অধিনায়ক মারিয়া মান্দা। চীনের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে তিনি বলেছেন, শক্তিশালী গ্রুপ হলেও প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার লক্ষ্য থাকবে তাঁদের।
মারিয়া বলেন, ‘এশিয়ান গেমস উপলক্ষে আজ আমরা চায়না যাচ্ছি। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, আমরা যেন সুন্দরভাবে পারফর্ম করতে পারি। আমরা এশিয়ান গেমসে যে গ্রুপে পড়েছি, সব দল খুব ভালো। তো আমরা যেন ভালোভাবে তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি এবং আমাদের সর্বোচ্চটা দিতে পারি, সেই উদ্দেশ্য থাকবে আমাদের।’
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার অভিজ্ঞতাও এশিয়ান গেমসে কাজে লাগবে বলে মনে করেন মারিয়া। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
‘আমাদের দলটিও অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সেই অনুযায়ী আমাদের প্রস্তুতিও খুব ভালো হচ্ছে। সাফে খেলে আমরা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তা আমাদের অনেক সাহায্য করবে। কারণ সেখানে আমরা বেশ কিছু ভালো দলের মুখোমুখি হয়েছি,’ বলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
চীনের প্রস্তুতি ম্যাচগুলো নিয়েও আশাবাদী মারিয়া। ‘এখন অনুশীলনের উদ্দেশ্যে আমরা চীনে যাচ্ছি, যেখানে দুটি ম্যাচ খেলা হবে। শক্ত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলা আমাদের জন্য ইতিবাচক হবে। আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব,’ বলেন তিনি।
ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত চাপ না নিয়ে নিজেদের খেলায় মনোযোগ দেওয়ার কথাও বলেছেন মারিয়া। তাঁর ভাষায়, ‘ম্যাচের ফলাফল সব সময় খেলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তাই প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হোক বা সাধারণ, নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাস বজায় রেখে আমরা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’
সর্বশেষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই হতাশার পর এবার এশিয়ার আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ পাচ্ছে দলটি। পদকের সম্ভাবনা নিয়ে বাস্তববাদী বাটলার এবং মাঠে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয়ে মারিয়া—দুই বক্তব্যেই একটি জায়গায় মিল আছে: এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হবে নিজেদের মান আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া।
চীনের ১০ দিনের ক্যাম্প ও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ সেই যাত্রার প্রথম ধাপ। এরপর জাপানে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মিয়ানমারের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ফল যা-ই হোক, এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ভবিষ্যৎ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এশিয়ান গেমসের জন্য বাংলাদেশের ২৩ সদস্যের দলে আছেন রূপনা চাকমা, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু, মনিকা চাকমা, মমিতা খাতুন, মারিয়া মান্দা, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, তহুরা খাতুন, সুরভী আক্তার আরফিন, অর্পিতা বিশ্বাস, ঋতুপর্ণা চাকমা, উন্নতি খাতুন, শাহেদা আক্তার রিপা, সাগরিকা, শামসুন্নাহার জুনিয়র, স্বর্ণা রানী মণ্ডল, মিলি আক্তার, আইরিন খাতুন, নবীরন খাতুন, মুনকি আক্তার ও সুলতানা।