টানা দুই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ভারতের বিপক্ষে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে সেই আত্মবিশ্বাসের কোনো প্রতিফলন দেখা গেল না। আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের পুরুষ হকিতে পুল পর্বের শেষ ম্যাচে ভারতীয় আক্রমণের সামনে পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ১০-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে পুল পর্ব শেষ করেছে জিমি-আমিরুলরা।
সোমবার জিফু প্রিফেকচুরাল গ্রিন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ ছিল ভারতের হাতে। প্রথম কোয়ার্টারে একটি গোল করে এগিয়ে যায় তারা। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আরও দুটি গোল করে ভারত বিরতিতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তৃতীয় কোয়ার্টারেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা। এ পর্বে চার গোল করে ব্যবধান ৭-০ করে ভারত। শেষ কোয়ার্টারে আরও তিন গোল করে ১০-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
ভারতের হয়ে অধিনায়ক হারমানপ্রিত সিং করেন হ্যাটট্রিক। শিলানন্দ লাকড়া করেন দুটি গোল। দলের বাকি গোলগুলো আসে অভিষেক, যুগরাজ সিংসহ অন্যদের কাছ থেকে। হারমানপ্রিতের তিন গোলের মধ্যে দুটি আসে দ্বিতীয়ার্ধে। ভারতীয় দল পুরো ম্যাচেই বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ ধরে রাখে।
ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারে অভিষেকের গোলে এগিয়ে যায় ভারত। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করেন যুগরাজ সিং। এরপর পেনাল্টি কর্নার থেকে ব্যবধান বাড়ান হারমানপ্রিত। ফলে প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। তৃতীয় কোয়ার্টারে বাংলাদেশের রক্ষণ ভেঙে আরও চারবার বল জালে পাঠায় ভারত। শেষ ১৫ মিনিটেও আক্রমণের ধার কমায়নি তারা।
এর আগে পুল পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া ও স্বাগতিক জাপানের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ এবং জাপানের কাছে ৬-১ গোলে হারের পর ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। শ্রীলঙ্কাকে ৫-১ এবং ইন্দোনেশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দুই জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ফলে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কিছুটা আত্মবিশ্বাসও তৈরি হয়েছিল।
তবে ভারতের বিপক্ষে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। পাঁচ ম্যাচে দুই জয় ও তিন হার নিয়ে পুল পর্ব শেষ করেছে তারা। অন্যদিকে ভারত পাঁচ ম্যাচের সবকটিতে জিতে পুল ‘এ’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে। পাঁচ ম্যাচে তাদের গোল ব্যবধান দাঁড়িয়েছে +৪৫।
১০-০ ব্যবধানে হারলেও বাংলাদেশের এশিয়ান গেমস হকি অভিযান এখানেই শেষ হচ্ছে না। পুল পর্ব শেষে এখন স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। সেখানে প্রতিপক্ষ ও ম্যাচের সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্টে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারিত হবে।
এদিকে পুল পর্বের পাঁচ ম্যাচেই জয় পাওয়ায় ভারত সেমিফাইনালে উঠেছে। ১ অক্টোবর সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া।
হকির পাশাপাশি একই দিনে আর্চারিতেও বাংলাদেশের জন্য বড় কোনো সাফল্য আসেনি। পুরুষ কম্পাউন্ডে নেওয়াজ আহমেদ রাকিব প্রথম এলিমিনেশন ম্যাচে ইরানের মিলাদ রাশিদিকে ১৪৬-১৪৫ ব্যবধানে হারিয়ে পরের ধাপে উঠেছিলেন। কিন্তু কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার ম্যাচে চীনের লুই জিনইয়ের কাছে ১৪৮-১৪৫ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেন।
পুরুষদের আরেক প্রতিযোগী হিমু বাছাড় শুরুতেই কাজাখস্তানের প্রতিযোগীর কাছে ১৪৬-১৪১ ব্যবধানে হেরে যান। নারীদের কম্পাউন্ডে বন্যা আক্তারও লড়াই করে শেষ পর্যন্ত ইরানের আশেঘজাদেহ বিতার কাছে ১৪৪-১৪৩ ব্যবধানে হেরে যান। কুলসুম আক্তার মনিও শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে ইন্দোনেশিয়ার ইউরিকে নিনা বোনিতার কাছে এক পয়েন্টে হেরে বিদায় নেন।
ফলে এশিয়ান গেমসের আরেকটি দিনে হকি ও আর্চারি—দুই ইভেন্টেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ১০-০ গোলের হারটি বাংলাদেশের পুল পর্বের সবচেয়ে বড় পরাজয় হয়ে থাকল। এখন স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করার লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশের।