খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার পুরঞ্জয় মহাজন পাড়ার গৌতম বুদ্ধ বিহারে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ৪৭তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব উদযাপিত হয়।
বুধবার সকালে বিহার প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এ সময় মহালছড়ি গৌতম বুদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ এম ভদন্ত প্রজ্ঞাজ্যোতি মহাথের, বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি তৃপ্তিকর চাকমা, সহ-সভাপতি ধীমান চাকমা, সাধারণ সম্পাদক ফলেন চাকমা এবং বিহারের দায়ক-দায়িকা ও শত শত পুণ্যার্থী উপস্থিত ছিলেন।
পতাকা উত্তোলন ও ধর্মীয় বন্দনা পাঠের পর বৌদ্ধ ভিক্ষুদের উদ্দেশে সংঘদান, বুদ্ধপূজা, চীবর দান, কল্পতরু দান, অষ্টপরিষ্কার দান এবং আকাশ প্রদীপ দানসহ নানাবিধ দান-দক্ষিণা প্রদান করা হয়। পুণ্যার্থীরা পরম ভক্তিভরে চীবর (ভিক্ষুদের পরিধেয় চীবর বা বস্ত্র) ও অন্যান্য সামগ্রী বৌদ্ধ ভিক্ষুদের উৎসর্গ করেন। ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় দেশ, জাতি ও সমগ্র মানবজাতির শান্তি, সুখ ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
বৌদ্ধ ধর্মানুসারে, তিন মাসব্যাপী বর্ষাবাস (প্রবারণা পূর্ণিমা থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত) সমাপ্তির পর এই কঠিন চীবর দান উৎসব পালন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা তৈরি, সেই সুতা রং করা এবং তা দিয়ে চীবর সেলাই করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দান করতে হয় বলেই এটি 'কঠিন' চীবর দান নামে পরিচিত। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মের মূল শিক্ষা— দান, শীল, মৈত্রী ও করুণার আদর্শ চর্চা করা হয়।
পুরঞ্জয় মহাজন পাড়ার গৌতম বুদ্ধ বিহারে এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পুণ্যার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে এক অন্যরকম আনন্দ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা হয়েছে ।