ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি, বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ও কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পল্টনে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ভোটের দিনে ভোটকেন্দ্রে মাইকিং করে ভোট চাওয়ার ইতিহাস বিএনপি সৃষ্টি করেছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে ভোটকেন্দ্রের সামনে মাইকিং করে ধানের শীষে ভোট চাওয়ার পরও নির্বাচন কমিশন নির্লজ্জের মতো দাবি করছে নির্বাচনে তারা সন্তুষ্ট!
বিএনপি জাতির জন্য একটা আপদ; এই আপদ সরাতে হবে উল্লেখ করে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, এই আপদ থাকলে জনগণের বিপদ বাড়তেই থাকবে।
তিনি বলেন, বিএনপি মুখে যা বলে কাজ তার বিপরীতটা করে। নির্বাচনের আগে তারা গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশবাসীকে সংস্কারের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে তারা সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিতে চাচ্ছে। তারা মনে করে জনগণ বোকা। কিন্তু জনগণ সবই বুঝে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি দাবি করছে গণভোট সংবিধানে নেই, জুলাই সনদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করতে পারে না। তাহলে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কোন সংবিধানের ক্ষমতাবলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে প্রশ্ন রেখে জাতির সামনে সেটি স্পষ্ট করতে তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের স্টাইলে দেশ পরিচালনার জন্যই বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কার করছে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হবে না। জনগণের অধিকার আদায় হবে না। তিনি বলেন, জনগণ প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন চায়নি, জনগণ রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন চেয়েছে। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর দেখা যাচ্ছে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও জনগণের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন না হলেও বিএনপি নেতাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার অনুগত সুবিধাভোগীদের নিয়ে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেরাচ্ছেন। দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়িয়ে টেন্ডারবাজি করে আর বিদেশি কোম্পানির কাছে দেশকে ইজারা দিয়ে কমিশন খেয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবার আগে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার হলেই দেশের উন্নয়ন হবে, জনগণ উপকৃত হবে। আসন্ন সংসদ অধিবেশনের আগেই গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনসহ সরকারের তৈরি সংকট কীভাবে নিরসন করা যায় সেই উদ্যোগ নিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার সহযোহিতা চাইলে দেশ গঠনে বিরোধীদল প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় আছে এবং থাকবে। কিন্তু নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে বিএনপি, প্রশাসনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের মতোই ভোট চুরি করেছে। শুধু ভোট চুরি করেই তারা থেমে যায়নি বরং তারা অবিশ্বাস্য ভোটের হিসাব দিয়েছে। দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৮% ভোট কাস্ট হলেও ফলাফল ঘোষণায় ৬৪% ভোট দেখানো হয়েছে!
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে হেয় করতে তারুণ্যের অহংকার দেলাওয়ার হোসেনের প্রাপ্ত ভোট কাটছাঁট করে কম ভোট দেখিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামীতেও এই কারচুপির চেষ্টা হলে জনগণ প্রতিহত করবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি তারুণ্যের আইকন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ইয়াসিন আরাফাত প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, কোনো ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করা বা প্রতিহিংসায় জড়ানো আমাদের আদর্শ নয়। আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলি এবং জনগণকে অন্যায়ের ব্যাপারে সজাগ করি।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির আসন এবং রাষ্ট্রপতির ভাইয়ের পরাজয়ের লজ্জা ঢাকতে গিয়ে বিএনপি নির্বাচনে কারচুপি করে নির্লজ্জতার পরিচয় দিয়েছে।