লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করতে বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসব অস্ত্রের সন্ধান দিতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
শনিবার রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ সদর দপ্তর আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এপ্রিল থেকে জুন ২০২৬ সময়ের দ্বিতীয় কোয়ার্টারের অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা উপলক্ষে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে আরও জনবান্ধব ও জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এই ইউনিটের মাধ্যমে অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।
অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাদের পুরস্কারের পরিমাণও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ভারী অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। পিস্তল, রিভলভার ও শটগানের মতো অস্ত্র উদ্ধারের তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
এ ছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুট হওয়া টিয়ার গ্যাসের শেল এবং অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে সহায়তার জন্য অস্ত্রের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।
তথ্যদাতাদের উৎসাহিত করতে তাঁদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা অস্ত্রের বিষয়ে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করবেন, তাঁদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। একই সঙ্গে তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাতিল করা অস্ত্রের লাইসেন্স জমা না দেওয়া হলে সেগুলোকে অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসব অস্ত্রের মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপরাধ দমনে পুলিশের দায়িত্ব ও জবাবদিহির বিষয়টিও তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কর্মকর্তা প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় বিশেষ কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ও কৌশলে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট গঠনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে লুট হওয়া অস্ত্র কোথায় রয়েছে, কারা সেগুলো ব্যবহার করছে বা সংরক্ষণ করছে—এ ধরনের তথ্য দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পৌঁছানোর জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দেশে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এসব অস্ত্র অপরাধ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও রাজনৈতিক সহিংসতাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের আশঙ্কা থাকে। ফলে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার এবং অবৈধ অস্ত্রের উৎস শনাক্ত করাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা দেশের অপরাধ পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনসহ বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর এলাকার পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।