চলতি বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গত দুই আসরে লোকসান ও নানা অনিয়মের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাড়াহুড়ো করে আরেকটি ‘জোড়াতালি’র টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চায় না বোর্ড। সবকিছু নতুন করে গুছিয়ে নিয়ে বিপিএল ফেরানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বিপিএল নিয়ে আগামীকাল রোববার বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ক্রিকেটাররা। এর আগে শনিবার বিসিবি সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করেছেন গত আসরের তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, ঢাকা ক্যাপিটালস ও রংপুর রাইডার্সের মালিকপক্ষ।
বৈঠক শেষে বিপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কর্মকর্তারা।
রংপুর রাইডার্সের সিইও ইসতিয়াক সাদেক বলেন, বাজারের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। তাই শুধু নামমাত্র বিপিএল আয়োজন করে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়ে প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার চেয়ে কিছুটা সময় নিয়ে ভালো একটি মডেলে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা বেশি যুক্তিসংগত।
তিনি বলেন, জানুয়ারি মাস পার হয়ে সাত-আট মাস চলে গেলেও তাদের কিছু স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ের পারিশ্রমিক এখনো বাকি। যেসব পৃষ্ঠপোষকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল, তারা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না করায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ঢাকা ক্যাপিটালসের সিইও আতিক ফাহাদ বলেন, বিসিবি জানিয়েছে, বিপিএলের নতুন মডেল তৈরি করে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে অন্তত চার-পাঁচ মাস সময় দেওয়া হবে, যাতে তারা বোর্ডের নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারে। গত দুই বছরের মতো বিপিএল আয়োজন করা হলে তারা আর অংশ নেবেন না। তবে নতুন মডেল এলে তারা থাকতে চান।
তিনি আরও বলেন, বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন বিপিএল অবশ্যই হবে, তবে এর মান উন্নয়নের জন্য তিনি সময় চাচ্ছেন। ভালো একটি মডেল তৈরির জন্য তামিম ইকবালকে সময় দিতে তারা রাজি।
গতবারের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের সিইও মোকছেদুল কামাল বাবু বলেন, তারা অবশ্যই মাঠে বিপিএল দেখতে চান এবং লিগের ধারাবাহিকতা থাকা প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে গত আসরগুলোর সমস্যাগুলোর সমাধান করে একটি কার্যকর মডেল তৈরি করাও জরুরি। এমন একটি মডেল প্রয়োজন, যাতে বিসিবি, ফ্র্যাঞ্চাইজি ও খেলোয়াড়—সবার স্বার্থ রক্ষা হয়।
শু/আজা